in

ডিজিটাল রূপান্তরে ডাটা ম্যানেজমেন্ট ব্যবহারের ছয়টি কৌশল

আধুনিক যুগে সময়ের সাথে এগিয়ে চলতে আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল ডাটা সমূহকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করতে হবে। আপনাকে বর্তমান সময়ের এই প্রতিযোগিতার বাজারে এগিয়ে যেতে হলে নতুন করে ভাবতে হবে, প্রতিষ্ঠানের ডাটা ম্যানেজমেন্টে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠান উন্নতির নতুন নতুন পথ আবিষ্কার করবে।

একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তর করার অনেকগুলো কৌশল রয়েছে। এই কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি কৌশল হচ্ছে, ডাটা ম্যানেজমেন্ট।  আসুন দেখে নিই, আপনার প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তর করতে ডাটা ম্যানেজমেন্ট ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল-

১. গ্রাহকের সাথে গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করা

প্রকৃতপক্ষে ডাটা সংরক্ষণ ও পরিচালনা একই বিষয়। একটি উচ্চস্তরের ডাটা স্ট্র্যাটেজিতে ব্যবসায়িক কৌশল প্রয়োগ ও ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে, যা গ্রাহকদের স্বচ্ছ সেবা প্রদান করার মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্টি লাভ করে এবং তারা নতুন গ্রাহকদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। ডিজিটালে রূপান্তরের একটি নিখুঁত উদাহরণ হলো, ডাটা বিশদভাবে বর্ণনা। আপনাকে গ্রাহকের কাছে আপনার তথ্যটি স্পষ্টভাবে ‍উপস্থাপন করতে হবে।

প্রোডাক্ট স্ট্র্যাটেজির সিনিয়র ডিরেক্টর, ক্যারিনা গোসেক বলেন, ‘‘আপনার মার্কেটিং প্রচারের জন্য আপনার গ্রাহকরা যেসব জায়গায় থাকেন, এমন প্রতিটি স্থান যেমন- সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল ফোন এসব জায়গা সম্পর্কে আপনাকে ভাবতে হবে ও যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। আর এই সব কিছুর জন্য আপনার একজন চিফ ডাটা অফিসার প্রয়োজন, যিনি এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন।

২. ডাটা প্রশিক্ষণ

Source: www.sessionlab.com

মনে রাখতে হবে ডেটা খাম-খেয়ালির কোনো বিষয় নয়। এটি আধুনিক যুগের একটি মূল্যবান সম্পদ। আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ দলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। অন্যথায় তারা কম্পিউটার বা কম্পিউটারের সফ্টওয়ারগুলোর ডাটা সমূহ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না।

মূল কথাটি হলো যে, ডিজিটালে রূপান্তরের একটি বড় দিক হলো প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। আপনার প্রতিষ্ঠান ডেটা ম্যানেজমেন্টে যে সুনাম অর্জন করে, তা আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি ও কর্মীদের মাধ্যমে অর্জিত হয়। মূল কথা হলো, প্রতিষ্ঠান ডিজিটালে রূপান্তরিত করতে আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

৩. ডাটা সমূহের সেটআপকে মূল্যায়ন করুন

বর্তমানে আপনার প্রতিষ্ঠানের সেটআপ ও সিস্টেমগুলো উৎপাদিত ডাটা পরিমাপ করার জন্য ও ধারণ করার জন্য পর্যাপ্ত কিনা, তা মূল্যায়ন করতে হবে। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, বর্তমান প্রযুক্তি নতুন ও পরিবর্তিত ডাটাসমূহ আউটপুট ফর্মুলা সমর্থন করবে কী না, তা দেখতে হবে। অন্যথায় বর্ধিত ডাটা ও সম্ভাব্য মূনাফা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়দি লভ্যাংশ অর্জন করতে চান, তাহলে আপনার বর্তমান ডাটা প্রসেসিংয়ের সকল সমস্যা সমাধান করে সামনে এগোতে হবে। যা ভবিষ্যতে ডাটা প্রক্রিয়াকরণে সহযোগিতা করবে।

বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিপূর্ণ কার্যকর একটি ডিজিটাল ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম তৈরী করতে হবে, যেটি বিভিন্নভাবে ডাটা আবিষ্কার ও ডাটা তৈরী করবে, যা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি করবে। সর্বোপরি এটি জানতে হবে যে, বিদ্যমান প্রযুক্তিগুলো নতুন ডাটা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করবে কী না? সে বিষয়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

৪. ডাটা সমূহের নিরাপত্তা

Source: ReadITQuick

তথ্যের ডিজিটালে রূপান্তরে একটি বড় অবহেলিত দিক হচ্ছে ডাটা সমূহের নিরাপত্তা। অনেকে মনে করেন যে ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ডাটা নিরাপত্তার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সাইবার ক্রাইম একটি বড় হুমকি। এই হুমকি থেকে আপনার ডাটাকে নিরাপদ রাখতে হবে।

কোনোভাবে ডাটা চুরি হওয়া, দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়া বা এর অপব্যবহার আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। যদি আপনি ইতোমধ্যে ডাটা সুরক্ষার জন্য প্রদক্ষেপ গ্রহন না করে থাকেন, তবে খুব দ্রুত ডাটা সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন। আপনার প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তর করার জন্য ডাটা ম্যানেজমেন্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৫. তথ্য প্রশাসনের উন্নতি

নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ডাটা ম্যানেজমেন্ট নির্ধারণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডাটা ম্যানেজমেন্ট নীতিমালার মাধ্যমে যদি ডাটা এন্ট্রি ও প্রসেসিংয়ের পরে, ডাটার মান ও অখণ্ডতা সংরক্ষণ করে, তাহলে ডাটা পরিচালকগণ সুন্দরভাবে আউটপুট দিতে সক্ষম হবে।

অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে। অতএব, আধুনিক যুগে প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তরকরণের ক্ষেত্রে ডাটা ম্যানেজমেন্টে কার্যকর ও সুষম প্রদ্ধতিগুলো ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকর।

৬. ডাটা থেকে সর্বোত্তম ফলাফল অর্জন

Source: medium.com

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই বিশাল পরিমাণ ডাটা হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা রয়েছে, তবে প্রায়শই ডাটাগুলো অবকাঠামো অথবা অর্ধ-কাঠামোগত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ডাটা কেন্দ্র পর্যায় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে এগুলো পরিমাণে এত বেশি ও জটিল যে এগুলোর প্রসেসিং করার জন্য নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি প্রয়োজন।

সুতরাং ডাটা স্ট্রিমিং, ডাটা ফেডারেশন, ইটিএল ও ডাটা ভার্চুয়ালাইজেশনের মতো ডাটা একত্রকরণ এর কৌশলগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করা প্রয়োজন। এটির মাধ্যমে সমস্ত প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আইটি প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশাল পরিমানের ডাটা নির্বিঘ্নে আদান-প্রদান করতে সক্ষম হবে। এটি বৃহৎ ও বিভিন্ন ধরণের ডাটাকে সংযুক্ত করবে।

Source: blogs.oracle.com

অতএব একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তর করার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ডাটা ম্যানেজমেন্ট। ডেটা ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সহজেই আপনার প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালে রূপান্তর করতে পারবেন। ডেটা ম্যানেজমেন্ট এর নীতিগুলো যথাযথভাবে পালন করলে ডাটাকে আরও অধিক কার্যকরী ও সময় উপযোগী করে গড়তে পারবেন যা আপনার প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ বয়ে আনবে।

Featured Image Source: www.clausmark.com

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

প্রতিষ্ঠানের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলা করবেন কীভাবে?