in

একজন ডিজিটাল মার্কেটারের যে ৭টি টুল ব্যবহার করা উচিত

একজন ডিজিটাল মার্কেটারকে তার প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য বিশ্লেষক, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন, টিমওয়ার্ক, সোশ্যাল মিডিয়াসহ আরোও বিভিন্ন টুলস ম্যানেজ করে চলতে হয়। একজন মার্কেটারের পক্ষে এসব কিছু ম্যানেজ করা অনেক অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু ঠিক এই কাজগুলোই বেশকিছু টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে এবং কাজগুলোকে আরো সহজভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

তাই প্রতিটি ডিজিটাল মার্কেটারের উচিত, তাদের প্রতিটি কাজ কীভাবে আরো সময় ও খরচ বাঁচিয়ে সহজেই সম্পন্ন করা যায় তা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত টুলস ব্যবহার করা। নিচে ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য তেমনি ৭টি কার্যকরী টুল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. কোশিডিউল (Coschedule)

CoSchedule

একজন ডিজিটাল মার্কেটারের একইসাথে বিভিন্ন কাজ অথাৎ প্রচার-প্রচারণা, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হয়। এসব কিছু একইসাথে একজন ব্যক্তির পক্ষে সঠিকভাবে সম্পন্ন করা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তবে একজন ডিজিটাল মার্কেটার কোশিডিউল টুলস ব্যবহার উক্ত কাজগুলো সহজেই সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে। কোশিডিউল এমন একটি মার্কেটিং টুল, যার মাধ্যমে আপনি আপনার সব ধরনের কনটেন্ট ও প্রজেক্টের একইসাথে প্রচার, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কোশিডিউলের অসাধারণ মার্কেটিং প্ল্যানের মাধ্যমে আপনি আপনার যাবতীয় কার্যকলাপ কম সময়ে এবং স্বল্প ব্যয়ে সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়াও কোশিডিউলের মাধ্যমে আপনি আপনার সমস্ত প্রজেক্ট, প্ল্যানিংয়ের কার্যকারিতা দেখতে পারবেন এবং সেখান থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, ব্লগ ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেটিং প্রজেক্টসমূহ একইসাথে পরিচালনাও করতে পারবেন।

১. টাইম ডক্টর (Time Doctor)

fitsmallbusiness.com

টাইম ডক্টর এমন একটি টাইম ম্যানেজম্যান্ট টুল যার মাধ্যমে আপনার বিজনেসে চলমান সব ধরনের বিষয়াবলী সম্পর্কে সূক্ষ্ণভাবে ধারণা নিতে পারবেন। এই টুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ডিজিটাল মার্কেটার জানতে পারেন তার কোন কাজটি কতটুকু সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, তার কর্মীগণ কোন কাজে কতক্ষণ সময় ব্যয় করেছে, কোন প্রজেক্টটিতে কত সময় লেগেছে বা আরও কত সময় লাগতে পারে এবং এ সবকিছু বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে সময় বাঁচিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

এছাড়াও টাইম ডক্টর টুলের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের উপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারি করা যায়। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে লেনদেনের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। মোটকথা, একজন ডিজিটাল মার্কেটারের প্রতিটি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে টাইম ডক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

৩. স্কিমলিংকস (Skimlinks)

এটি এমন একটি টুল যার দ্বারা একজন ডিজিটাল মার্কেটার তার ক্লায়েন্টদের পছন্দ সম্পর্কে ধারণা পায় এবং সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করে সহজেই ক্লায়েন্টদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। এবং এই টুলটি এমন কিছু স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ও লিংক জেনারেট করবে যার মাধ্যমে আপনার রেভিনিউ বাড়তে থাকবে।

স্কিমলিংকসে এমন অসংখ্য বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলোর দ্বারা আপনার উৎপাদিত ডাটা প্রিমিয়াম বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিক্রি করে আরো বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এছাড়াও স্কিমলিংকসের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন, কাস্টমাররা কোন ধরনের কনটেন্ট বেশি পছন্দ করে। অতএব আপনি যদি সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তাহলে কাস্টমাররা আপনার নিকট হতে আরো বেশি পরিমাণ কনটেন্ট ক্রয় করবে। এতে আপনার ব্যবসা আরো সমৃদ্ধ হতে থাকবে।

৪. ইনফিউশনসফট (Infusionsoft)

ইনফিউশনসফট এমন একটি টুল যা ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসায়ের মার্কেটিং ও সেলস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি করতে পারবেন। মূলত ইনফিউশনসফটের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ছোট ছোট ব্যবসাগুলো আরো সমৃদ্ধ করা। এর মাধ্যমে আপনি আপনার কাস্টমারদের সাথে আরো সহজভাবে কনভার্সেশন করতে পারবেন যার ফলে কাস্টমারদের সাথে আরো ভালো সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে নতুন নতুন কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে পারবেন।

এছাড়াও ইনফিউশনসফটের মাধ্যমে আপনি কাস্টমারদের চাহিদার পরিসংখ্যান সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী কাস্টমারদের নিকট আপনার পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন। এবং এ সবকিছুই একই সময়ে আপনি ইনফিউশনসফটের ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারবেন যা আপনার সময় বাঁচাতে সাহায্য করবে।

৫. ক্রাউডফায়ার (Crowdfire)

ক্রাউডফায়ার সাধারণত একটি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টুলস। এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসায়ের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলো একইসাথে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি আপনার ইন্সটাগ্রাম ও টুইটার একাউন্টকে একত্রিত করে উপযুক্ত কাস্টমার খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে।

Reviews – Finances Online

ক্রাউডফায়ারে আপনি আপনার ব্লগ ও ওয়েবসাইটও যুক্ত করতে পারবেন। এবং আপনার গ্রাহকরা কোন ধরনের কনটেন্ট বেশি পছন্দ করে সে অনুযায়ী কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে পারবেন।

৬. হাইটেইল (Hightail)

হাইটেইল টুলে রয়েছে অসাধারণ কিছু মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ও আইডিয়া, যা আপনার পণ্যের গ্রাহক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি এমন একটি টুল যা সর্বাধিক সৃজনশীল ডিজিটাল মার্কেটিং টিম দ্বারা আপনার ব্যবসায়ের প্রচার-প্রচারণার কাজ করে থাকে। এটি আপনার প্রকল্পের সবগুলো ডেটা একই জায়গায় সরবরাহ করে থাকে যাতে করে টিমের সকল সদস্যরা এতে প্রবেশ করতে পারে এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

৭. বেজক্যাম্প (Basecamp)

বেজক্যাম্প টুলটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো পণ্যের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। এটি কোনো ধরনের মিটিং, ম্যাসেজ বা ইমেইল প্রেরণ ছাড়াই আপনার ব্যবসায়ের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করে দিবে। এবং কাস্টমারদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা আপনার ব্যবসাকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলে।

Featured Image: Medium.com

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ডিজিটাল মার্কেটারের যে দক্ষতা থাকা আবশ্যক

জীবন বদলে দেবার মতো কয়েকটি দক্ষতা