in

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের আদ্যোপান্ত

ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারের ফলে আজকাল আমাদের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুই অনলাইন নির্ভর হয়ে গিয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন। প্রচলিত মাধ্যমে পণ্যের মার্কেটিং পরিচালনা এবং পণ্য বিক্রয়ের চেয়ে তারা এসব কাজের জন্য অনলাইনকেই বেছে নিচ্ছেন। ফলে উদ্ভূত হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং ধারণার।

এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশলগুলো ব্যবহার করেই গড়ে উঠেছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে হয়তো অনেক সাধারণ পাঠকই পরিচিত নয়। তাহলে আসুন প্রথমে পরিচয় পর্ব সেরে নেয়া যাক।

Source: TechZim

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী?

সহজ কথায়, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অন্যের পণ্যের মার্কেটিং করে দেয়া। কিন্তু তাতে আপনার লাভ? লাভ অবশ্যই রয়েছে। কারণ বিক্রিত পণ্যের ওপর আপনি একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় কমিশন পাবেন। আপনি যত বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, আপনি তত বেশি কমিশন পাবেন, আপনার উপার্জনের পাল্লাও ভারি হতে থাকবে।

তাহলে সারকথা দাঁড়াচ্ছে, কোনো কোম্পানির প্রচার ও পণ্যের বিক্রি বাড়াতে যখন অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কমিশনের বিনিময়ে মার্কেটিং বা বিপণন পরিচালনা করে, তখন তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। এবং এটা বোঝাও খুব সহজ যে, যেহেতু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইন ভিত্তিকই হবে, তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশলগুলো ব্যবহার করেই এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এখন দেখে নেয়া যাক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Source: LiveChat

মার্চেন্ট

যিনি বা যে প্রতিষ্ঠান পণ্যটি তৈরি করেন, তাকে মার্চেন্ট বলে। প্রচলিত যেকোনো পণ্যই মার্চেন্ট উৎপাদন করে বিক্রির জন্য অনলাইন মাধ্যমকে বেছে নিতে পারেন।

পাবলিশার বা অ্যাফিলিয়েট

মার্চেন্টের তৈরি করা পণ্যের মার্কেটিং পরিচালনা করে যারা সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করেন, তারাই হলেন পাবলিশার বা অ্যাফিলিয়েট। বিক্রিত পণ্যের ওপর অ্যাফিলিয়েটরা মার্চেন্টের কাছ থেকে কমিশন নেয়। একই পণ্যের জন্য একাধিক অ্যাফিলিয়েট থাকতে পারে।

নেটওয়ার্ক

এই প্ল্যাটফর্মে মার্চেন্ট এবং অ্যাফিলিয়েট দুই পক্ষই থাকেন। মার্চেন্ট তার মার্কেটিং উপযোগী পণ্যের তালিকা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে ঝুলিয়ে দেয়। এখান থেকেই অ্যাফিলিয়েটরা নিজেদের সুবিধামতো পণ্য বাছাই করে সেটার বিজ্ঞাপন করে। এই নেটওয়ার্কেই দু’পক্ষের মধ্যে কমিশনের হার ঠিক হয়।

ক্রেতা

স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে এরাই অ্যাফিলিয়েটদের মার্কেটিং দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে পণ্যটি কেনে। মার্চেন্ট এবং অ্যাফিলিয়েটের মধ্যে কী চুক্তি হয়েছে, তারা তা জানে না; তবে এর ব্যতিক্রম আছে। কিছু কিছু সময় পণ্য কিনতে গেলে অ্যাফিলিয়েটের পাওয়া কমিশনের উল্লেখ থাকে।

এখনও খটকা যায়নি, তা-ই না? মনে নিশ্চয় প্রশ্ন জাগছে- এত পণ্য বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে, এর মাঝে কার মার্কেটিং এর ফলে কোন পণ্যটি বিক্রি হলো, সেটি কীভাবে বোঝা যাবে? একটি উদাহরণ দিয়ে সহজ করা যাক। ধরা যাক, কোনো পণ্য বিক্রির জন্য একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। এই ওয়েবসাইটের পণ্যের মার্কেটিংয়ের জন্য অ্যাফিলিয়েট ১ এবং অ্যাফিলিয়েট ২ রয়েছে। এখন যে অ্যাফিলিয়েট থেকেই কোনো পণ্য বিক্রি হোক না কেন, ওয়েবসাইটের মালিকের কাছে সাথে সাথে ঐ অ্যাফিলিয়েট থেকে লিংক চলে যাবে। ফলে তিনি সহজেই বুঝতে পারবেন, কোন অ্যাফিলিয়েট কমিশনটি পাবেন।

ভালোভাবে শুরু করতে পারলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি লাভজনক উপার্জনক্ষেত্র হতে পারে আপনার জন্য। কিন্তু এটি শুরু করার আগে আপনাকে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

নিশ কী?

সহজ ভাষায় নিশকে বলা যায় ক্যাটাগরি। অর্থাৎ আপনি যে পণ্য বিক্রি করবেন, সেটিই হচ্ছে আপনার নিশ। নিশ নির্ধারণ করে আপনাকে একটি নিশ সাইট নিতে হবে। এই সাইটে আপনার নির্ধারিত পণ্যটির মার্কেটিং এবং কেনাবেচা চলবে। যেমন ধরুন, কোনো একটি ওয়েবসাইটে খেলাধুলার সকল সরঞ্জাম বিক্রি করে। এখন-সেখান থেকে আপনি মার্কেটিংয়ের জন্য বেছে নিলেন ক্রিকেটের সরঞ্জামকে। এক্ষেত্রে আপনার নিশ হচ্ছে ক্রিকেট। আবার সাব নিশও রয়েছে। ক্রিকেটের সরঞ্জামের ভেতর ব্যাট যেমন একটি সাব নিশ। সাবনিশ নিয়েও আপনি অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। নতুনদের জন্য এটিই হবে সবচেয়ে সুবিধাজনক।

প্রোডাক্ট কোথায় পাবেন?

নিজের পছন্দমত নিশ থেকে পছন্দমতো প্রোডাক্ট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক রয়েছে। গুগলে সার্চ করলেই এমন প্রচুর অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক পাবেন। এছাড়া অনেক পণ্য কেনাবেচার ওয়েবসাইট তাদের হোমপেজেও অ্যাফিলিয়েটদের জন্য জায়গা রাখে। সেখান থেকেও পণ্য বাছাই করে মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। কিন্তু এটি অনেক সময়সাপেক্ষ হওয়ায় মার্কেটপ্লেসগুলোই ব্যবহার করা উচিত। এসব মার্কেটপ্লেস বা নেটওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্য বাছাই করে তারপর মার্কেটিং শুরু করতে হবে।

Source: Karoku.com

কীভাবে মার্কেটিং পরিচালনা করবেন?

এটিই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। এর ধরাবাঁধা কোনো জবাবও নেই। মার্কেটিং বিষয়টি নিয়ম মেনে চলা এবং সৃষ্টিশীলতা দেখানো- এই দু’টির সমন্বয়। আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। নিত্যনতুন মার্কেটিং আইডিয়া সম্পর্কে জেনে সেগুলোর প্রয়োগও করতে হবে। সর্বোপরি, মার্কেটিংয়ের কৌশলগুলো আপনাকে নিজ দায়িত্বে শিখে নিতে হবে। মনে রাখবেন, আপনি যত ভালো মার্কেটিং করতে পারবেন, আপনার আয়ের সুযোগও তত বাড়বে।

একজন অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করতে হলে প্রথমেই আপনাকে কোনো আফিলিয়েট প্রোগ্রাম বা নেটওয়ার্কে যোগ দিতে হবে। বিখ্যাত কয়েকটি অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হলো, অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস, কমিশন জংশন, ইমপ্যাক্ট রেডিয়াস, ক্লিকব্যাংক, শেয়ারেসেল ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ফেইক অ্যাফিলিয়েটদের জন্য এই নেটওয়ার্কগুলো সকলকে অনুমতি দেয় না।

তাই আপনাকে অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ শুরুর আগে নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। সুগঠিত একটি ওয়েবসাইট থাকলে এসব নেটওয়ার্কে অনুমতি পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, কমিশন ভিত্তিক এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে উপার্জনের ভালো সুযোগ থাকলেও অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করার জন্য আপনার দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।

Featured Image: linkedin.com

Written by Sizan Ahmed Jim

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

কনটেন্ট ইজ কিং: বিল গেটস

মানি ম্যানেজমেন্টের জন্য সেরা ৬টি অ্যাপ্লিকেশন