in

এই বছরের জন্য সেরা কয়েকটি ব্যবসায়িক লক্ষ্য

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। সময় পরিবর্তন হয়, তার সাথে সাথে পরিবর্তন হয় মানুষের চাহিদাসমূহেরও। তাই প্রত্যেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের সেবা প্রদান করা। তাই প্রতি বছরই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আপনাকেও আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও ধরন পরিবর্তন করতে হবে। আর এসব কিছুর পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ। তবেই আপনি আপনার ব্যবসাকে সময়ের সাথে সাথে সমানের দিকে এগিয়ে নিতে পারবেন। দেখে নিন, এ বছরে আপনার ব্যবসায়ের জন্য কী কী লক্ষ্য নির্ধারণ করা আবশ্যক।

১. বাজেট নির্ধারণ করা

Source: stuartlansdale.com

অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা তাদের ব্যবসা শুরু করে থাকেন কোনোরকম আর্থিক পরিকল্পনা ছাড়াই। এই আর্থিক পরিকল্পনাকে প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় ‘বাজেট’। যদি আপনি আপনার ব্যবসার জন্য কোনো বাজেট নির্ধারণ না করে থাকেন, তাহলে এই বছরে আপনার সর্বপ্রথম ব্যবসায়িক লক্ষ্য থাকা উচিত বাজেট নির্ধারণ করা।

একটি পরিকল্পিত বাজেটই আপনাকে বলে দেবে, আপনি ব্যবসায়ের কোন খাতে কীভাবে খরচ করবেন, কোন খাতে কতটুকু অর্থ ব্যয় করা উচিত এবং কোন খাত হতে আপনার কতটুকু মুনাফা অর্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে। মোটকথা, আপনার পরিকল্পিত বাজেটই আপনার ব্যবসায়ের সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

২. ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো

প্রত্যেকটি ব্যবসা মালিকের প্রধান একটি লক্ষ্য থাকা উচিত, চলমান ব্যবসায়ের যথা সম্ভব খরচ কমানো। ব্যবসায়ের প্রতিটি খাত সম্পর্কে বিশদ পরিকল্পনা করার মাধ্যমে কীভাবে সেই কাজগুলো আরো দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, কীভাবে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা কমানো যায়। এছাড়াও ব্যাংক ঋণের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে এনে নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবসা পরিচালনা করা সর্বোত্তম। তবে হ্যাঁ, ব্যবসায়িক খরচ কমাতে গিয়ে যেন আপনার পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়ে না যায়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

৩. উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তিই হলো কর্মী। কারণ, তাদের কাজের উপরই নির্ভর করবে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পথচলা। তাই আপনার ব্যবসার প্রতিটি খাতে আলাদা আলাদাভাবে সেই কাজের জন্য দক্ষতা সম্পন্ন উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে। যারা তাদের দক্ষতা দিয়ে আপনার ব্যবসায়ের সকল কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে আপনার ব্যবসায়ের উন্নতি বয়ে আনবে। অতএব, ব্যবসায়ের অগ্রগতির জন্য এ বছরে আপনার ব্যবসায়িক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হওয়া উচিত, উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়া। 

Source: redbooth.com

৪. গ্রাহকদের সেবাদানে নতুন প্রক্রিয়া

যেহেতু আপনার ব্যবসায়ের প্রধান লক্ষ্যই হলো গ্রাহকদের সেবাদান করা, সেহেতু কীভাবে আপনার সেবা গ্রাহকদের নিকট আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আপনার সেবা দ্রুত পৌঁছানো যায়, কীভাবে গ্রাহকদের সাথে আরো ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় এবং কীভাবে গ্রাহকদের অভিযোগগুলোর দ্রুত সমাধান করা যায়, এ সমস্ত বিষয়াবলী সম্পর্কে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবাদানের নতুন নতুন প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন করতে হবে। পুরনো গ্রাহক ধরে রাখতে এবং নতুন গ্রাহক সৃষ্টি করতে সময়ের সাথে সাথে আপনার ব্যবসাতেও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গ্রাহকদের সর্বোৎকৃষ্ট সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি

Source: WebCEO

বর্তমান সময়ে গ্রাহকদের কাছে যেকোনো পণ্যের সেবা পৌঁছে দেওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যমে হলো ই-কমার্স। অথাৎ ব্যবসায়িক ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের সেবাসমূহ কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের সাথে খুব সহজেই পৌঁছে দিতে পারেন। এছাড়াও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন কনটেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পণ্যের প্রচার-প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হলো ওয়েবসাইট। অতএব আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক যত বৃদ্ধি পাবে, আপনার ব্যবসায়ের প্রচার-প্রসারও তত বৃদ্ধি পাবে, যা আপনাকে নতুন নতুন গ্রাহক বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তাই ওয়েবসাটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে মানসম্মত কনটেন্ট শেয়ার করতে পারেন, ওয়েবসাইটের এসইও করতে পারেন এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন কৌশল কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়ানো যায়।

৬. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের ব্যবহার

যেকোনো ব্যবসার অগ্রগতির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটিংয়ের ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে বেছে নিয়েছে, যেখানে তারা দিনের অনেকটা সময় ব্যয় করে থাকে। অতএব, আপনার ব্যবসার প্রচার-প্রসারের জন্য উপযুক্ত একটি মাধ্যম হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। অর্থাৎ, ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, পিন্টারেস্টের মতো সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে আপনার ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে প্রচার করতে পারেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে তুলনামূলক খরচও কম হয়। কম খরচে অধিক গ্রাহক পেতে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

৭. নতুন পণ্য তৈরি করা

সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যা, তার চেয়ে দ্বিগুণ হারে দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন সব সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধানেও কাজ করছে লক্ষ লক্ষ প্রতিষ্ঠান। তাই আপনাকেও সময়ের সাথে সেবার মান ও ধরন বদলাতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে গ্রাহকদের সমস্যা খুঁজে বের হবে এবং সেই সমস্যা সমাধানে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সর্বোৎকৃষ্ট সেবা (সমাধান) প্রদান করতে নতুন নতুন সব পণ্য তৈরি করতে হবে। আর গ্রাহকরা যখন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে তাদের সমস্যা সমাধানে সহজ ও উৎকৃষ্ট সমাধান পেতে থাকবে। তখন আপনার ব্যবসাও দিন দিন উন্নতি হতে থাকবে। তাই প্রতি বছরই আপনার ব্যবসায়িক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হওয়া উচিত, চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পণ্যের উদ্ভাবন।

Featured Image Source: Krassol

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

সঠিক ইউআরএল (URL) নির্বাচন করবেন কীভাবে?

গুগল পেনাল্টি থেকে আপনার ওয়েবসাইট বাঁচাবেন কীভাবে?