in

কনটেন্ট ইজ কিং: বিল গেটস

Image Source: medium.com

১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ‘কনটেন্ট ইজ কিং’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন, যেটি মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। কুড়ি বৎসর পূর্বে এই লেখায় যা বলা হয়েছে, তা বর্তমানে অনেকখানি প্রাসঙ্গিক। এখানে বিল গেটসের ‘কনটেন্ট ইজ কিং’ প্রবন্ধটির বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো-

“আমি মনে করি কনটেন্টের মাধ্যমে ভালো পরিমাণে অর্থ আয় করা সম্ভব হবে ইন্টারনেটেও, যেমনটা ঘটছে সম্প্রচার মাধ্যমে।

অর্ধ-শতক পূর্বে টেলিভিশন বিপ্লব সূচনা করেছিলো কতগুলো শিল্পের, যার মধ্যে অন্যতম ছিলো টিভি-সেট তৈরি করা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সাফল্য তারাই লাভ করেছে, যারা এই মাধ্যমটিকে তথ্য ও বিনোদন উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে।

ইন্টারনেটের মতো পারস্পরিক নির্ভরশীল নেটওয়ার্কে ‘কনটেন্ট’ এর সংজ্ঞা বেশ বিস্তৃত। উদাহরণস্বরূপ, কম্পিউটার সফটওয়্যার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট, যেটি নিয়ে মাইক্রোসফট পড়ে থাকবে, তা বেশ ভালোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হবে বলা যায়।

কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে তথ্য ও বিনোদন সরবরাহের, আর এ ধরনের অংশগ্রহণে কোনো প্রতিষ্ঠানই সামান্য নয়।

ইন্টারনেটের একটি দারুণ দিক হচ্ছে যে কেউই একটি পিসি আর একটি মডেম দিয়ে তার নিজের ইচ্ছেমতো তৈরি করা কনটেন্ট প্রকাশ করতে পারেন। একরকমভাবে ইন্টারনেট আসলে একধরনের মাল্টিমিডিয়া যা একটি ফটোকপি মেশিনের মতো কাজ করে। কারণ, অডিয়েন্সের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, এটি কম খরচে অনুলিপি তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও ইন্টারনেট বিশ্ব জুড়ে প্রায় বিনা খরচে তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে। সামনের সুযোগগুলো তাই দারুণ, আর অনেক প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেটের জন্য কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনাও শুরু করেছে।

উদাহরণ হিসেবে, সম্প্রতি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসি (NBC) এবং মাইক্রোসফট একত্রে একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ নিউজ বিজনেস (Interactive News Business) শুরু করতে সম্মত হয়েছে। এতে আমাদের কোম্পানি এমএসএনবিসি (MSNBC) নামে একটি ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্কের মালিকানা লাভ করবে, যেটি হবে একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ নিউজ সার্ভিস (Interactive News Service)। এ দ্বৈত-চুক্তিতে এনবিসি সম্পাদকীয় অংশটি নিয়ন্ত্রণ করবে।

Image Source: sitepronews.com

আমি আশা করছি, সমাজ একটি তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থা দেখতে পাবে। যেখানে কনটেন্টের জনপ্রিয়তা নিয়ে সম্ভাবনা থাকবে প্রচুর ব্যর্থতা ও সফলতার। যা শুধুমাত্র সফটওয়্যার এবং খবরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সেই সাথে আরো বিভিন্ন বিভাগ যুক্ত হবে। যেমন: গেমস, বিনোদন, খেলাধুলাসংক্রান্ত প্রোগ্রামিং, নির্দেশনা, শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন। যুক্ত করবে অনলাইন কমিউনিটির প্রধান আকর্ষণগুলো।

প্রিন্ট ম্যাগাজিনগুলোর আছে কিছু বাঁধাধরা পাঠক, যাদের একই ধরনের কতগুলো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ থাকে। এ পাঠক সমাজই হয়তো একসময় ইলেক্ট্রনিক অনলাইন সংস্করণের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এমনটা ভাবা খুব দুষ্কর নয়।

কিন্তু অনলাইনে সাফল্য পেতে হলে, একটি ম্যাগাজিন তার প্রিন্ট মাধ্যমে যা দিচ্ছে, তা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ছেড়ে দিলেই হবে না। আসলে প্রিন্ট মাধ্যমের জন্য তৈরী কনটেন্টে সে পরিমাণ মিথস্ক্রিয়া করার ক্ষমতা ও দখল থাকে না, যা অনলাইন মাধ্যমকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

যদি এমনটাই ভাবা হয় যে, একজন ব্যক্তি কম্পিউটার স্ক্রিনে পড়বেন, তাহলে তার জন্য অবশ্যই পরিপূর্ণ এবং অত্যন্ত তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে, যেটি তিনি নিজের ইচ্ছামতন খুঁজে নিতে পারবেন। তার জন্য অডিও শোনার; সম্ভব হলে ভিডিও দেখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পত্রিকায় থাকা ‘সম্পাদক সমীপে’ ধরনের ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের ব্যবস্থায় আটকে না থেকে ব্যবহারকারীর জন্য এমন ধরনের সুযোগ রাখতে হবে যেন তা ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের ধারণাকে বিশালভাবে পালটে দেয়।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, কীভাবে একটি বিশেষ আগ্রহী শ্রেণীর জন্য কাজ করা মুদ্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন মাধ্যমে সফল হবে। এমনকি ইন্টারনেট কিছু মুদ্রিত ম্যাগাজিনের ভবিষ্যত নড়বড়ে করে দিতে পারে।

এখন কতিপয় গবেষক ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। এই চর্চা প্রচারসংখ্যায় দুর্বল মুদ্রিত জানার্লগুলোর ভবিষ্যতকে সংশয়ে ফেলবে।

সময়ের সাথে ইন্টারনেটে তথ্যের বিস্তৃতি বৃহৎ আকার ধারণ করবে, যাকে এড়িয়ে থাকা সম্ভব হবে না। যদিও এই সোনার হরিণ প্রাপ্তির পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই আটকে আছে, তবে আমার মনে হয় যোগাযোগের খরচ হ্রাস এবং বিভিন্ন দেশের স্থানীয় কনটেন্টের ন্যূনতম সহজলভ্যতায় এটি দ্রুতবেগে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

ইন্টারনেটের সমৃদ্ধির জন্য হলেও কনটেন্ট যোগানকারীদের তাদের কাজের জন্য দিতে হবে সম্মানী। দীর্ঘমেয়াদী প্রত্যাশাগুলো ইতিবাচক, তবে আমি ধারণা করছি স্বল্পমেয়াদী কনটেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপন কিংবা তাদের গ্রাহক হতে অর্থ উপার্জন করতে না পেরে হতাশ হবে। ইতিবাচক পরিস্থিতির সময় এখনও আসেনি, এর জন্য প্রয়োজন বেশ ভালো একটা সময়।

এখন পর্যন্ত ইন্টারঅ্যাকটিভ পাব্লিশিংগুলোতে দেওয়া বেশিরভাগ অর্থ এবং শ্রমই ভালোলাগা থেকে সামান্য কিছু বেশির কারণে অথবা সাধারণভাবে প্রোডাক্ট প্রমোশনের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে প্রচেষ্টাগুলো এ আশা থেকেই করা হচ্ছে যে সময়ের সাথে সাথে হয়তো কোনোভাবে এখান থেকে লাভবান হওয়ার উপায় বের হবে।

তবে এই ক্ষেত্রটিতে বিজ্ঞাপনের ভবিষ্যত আশাব্যঞ্জক। ইন্টারএকটিভ অ্যাডভার্টাইজিংয়ের সুবিধা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে তথ্য শুধুমাত্র আকর্ষণ সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত হয়। ইউজার বাড়তি তথ্যের জন্য অ্যাডে ক্লিক করতে পারেন এবং এতে করে বিজ্ঞাপনদাতা ক্লিক করার পরিমাণ ও কারণ নির্ণয় করতে পারেন।

কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেটে সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের পরিমাণ শূন্যের কাছাকাছিই, হয়তো সব মিলিয়ে ২০ বা ৩০ মিলিয়ন ডলার। নতুন মাধ্যমের প্রতি বিজ্ঞাপনদাতারা সবসময়ই অনীহা প্রকাশ করেন, আর ইন্টারনেটও নতুন এবং ব্যতিক্রম একটি মাধ্যমই।

কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতাদের এই অনীহা অমূলক নয়। ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দেখতে অধিকাংশ ব্যবহারকারীরা তেমন আগ্রহ বোধ করে না। একটি কারণ হচ্ছে বেশিরভাগ সময় বিজ্ঞাপনদাতারা বড় আকারের ছবি ব্যবহার করে, যা টেলিফোন ডায়াল-আপ সংযোগে ডাউনলোড হতে বেশ সময় নেয়। ম্যাগাজিনের বিজ্ঞাপন বেশ খানিকটা জায়গা নিলেও পাঠক দ্রুতই পৃষ্ঠা উল্টে ফেলতে পারেন।

ইন্টারনেটের সংযোগ যত দ্রুততর হবে, বিজ্ঞাপন লোড হওয়ার জন্য বসে থাকার বিরক্তি তত কমবে। তবে আরো বেশ কতগুলো বছর দেরি আছে সে অবস্থা আসতে।

কিছু কনটেন্ট প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে, মাঝে মধ্যে বিনামূল্যে কনটেন্টের লোভও দেখাচ্ছে। তবে এতে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা সূক্ষ্ম ব্যাপার। কারণ, সাবস্ক্রিপশন ফি চার্জ করা শুরু হলে যে সংখ্যক ভিজিটর ফ্রি সুবিধার জন্য সাইটটিতে যেত, তার সংখ্যা কমে যাবে, এতে করে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ওয়েবসাইটটির মূল্যও কমে যাবে।

কনটেন্টের জন্য খরচ করা এখনো ঠিকমতো প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে ব্যর্থতা। ইলেক্ট্রনিক লেনদেনের খরচ ও বিড়ম্বনায় যে ন্যায্য সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারিত হয়, সেটাকে সুবিধাজনক মনে হয় না।

কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হবে, যেখানে কনটেন্ট সরবরাহকারী মাত্র কয়েক পয়সার (Cent) মাধ্যমে তথ্য প্রদান করতে পারবে। আপনি যদি দেখেন যে একটি পেইজে ঢুকতে মাত্র কয়েক পয়সা খরচ হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই আপনি এই সামান্য কিছু পয়সার জন্য চেক লিখতে বসবেন না বা মেইলবাক্সে মেইল পাওয়ার কথা ভাববেন না। চাহিদানুযায়ী আপনি ঠিকই ক্লিক করবেন, জানা থাকবে যে এতে করে খরচ হবে মাত্র কয়েক পয়সাই।

এই প্রযুক্তি প্রকাশকদের বিশ্বব্যপী ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর আশার সাথে সাথে সামান্য আয়ের পথও করে দেবে।

Image Source: forbes.com

এভাবে শেষমেষ যারা সফল হবে, তারাই ইন্টারনেটকে অগ্রসর করে চালিত করবে উদ্ভাবন, অভিজ্ঞতা এবং পণ্যের মার্কেটপ্লেস হিসেবে, যা হবে একটি কনটেন্টের মার্কেটপ্লেস।”

Featured Image: parismatch.com

Written by Anabil Ghose

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

গুগল পেনাল্টি থেকে আপনার ওয়েবসাইট বাঁচাবেন কীভাবে?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের আদ্যোপান্ত