in

ডাটা এন্ট্রি জব: কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন?

ডাটা এন্ট্রি চাকরির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা আমরা অনেকেই হয়তো পড়েছি। কিন্তু শব্দগুলোর সাথে পরিচয় থাকলেও খুব কম মানুষই জানে, আসলে কাজটি কেমন, কীভাবে করতে হয়, কী কী দক্ষতা থাকা প্রয়োজনীয় এই কাজটির জন্য। একথা ঠিক যে, বিশেষত ছাত্রাবস্থায় আয় করার জন্য ডাটা এন্ট্রি কাজটির বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অনেকে একে অনেক সহজে আয় করার মাধ্যমও মনে করে থাকেন। কিন্তু আসলেই কি অতটা সহজ? কিংবা অনেক কঠিন?

Source: Upwork

বাস্তবতা হচ্ছে এর কোনোটিই নয়। একদম অজ্ঞ থেকেও যেমন এই কাজটি করা যাবে না, তেমনি কাজটি সম্পর্কে ভাল ধারণা এবং নিয়মিত চর্চা করার ফলে সহজেই আপনি এতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন। সুতরাং শুরুতেই আমাদেরডাটা এন্ট্রি কাজটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।

বিশ্বব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তি তথা কম্পিউটারের ক্রমবিকাশের ফলে তথ্য ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমানে সকল তথ্যকেই কম্পিউটারাইজড করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অফলাইন মাধ্যমে যেসব তথ্য সংরক্ষিত আছে, সেগুলোকে অনলাইনে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হচ্ছে। এটিই হচ্ছে মূলত ডাটা এন্ট্রির প্রাথমিক ধারণা।

সহজ কথায়, ডাটা এন্ট্রি বলতে মূলত মূলত কোনো স্থান বা প্রোগ্রামে সংরক্ষিত তথ্যকে অন্য কোনো কম্পিউটার বা প্রোগ্রামে প্রতিলিপি করাকেই বোঝায়। ডাটাগুলো হতে পারে হাতে লেখা কোনো তথ্য, অডিও রেকর্ডিং, পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি। এগুলোকে কম্পিউটারে টাইপ করে সংরক্ষণ করাই ডাটা এন্ট্রির মূল কাজ

Source: realhomejobsnow.com

কম্পিউটার আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই ডাটা এন্ট্রি কাজের প্রচলন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারের সাথে সাথে এই কাজের বিস্তার ঘটেছে। অনেক তথ্য এন্ট্রি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজন হচ্ছে অনেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের। এটাই প্রধানত কাজের জায়গা।

এখন দেখে নেওয়া যাক, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করতে হলে কী কী বিষয়ে আপনাকে দক্ষ হতে হবে।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড

ডাটা এন্ট্রির প্রাথমিক পর্যায়েই আপনাকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের কাজ শিখতে হবে। অধিকাংশ সময়েই ডাটা হিসেবে আপনাকে ওয়ার্ড ফাইল এন্ট্রি করতে হবে। এজন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে দক্ষতা থাকা খুবই আবশ্যক। এছাড়া মাইক্রোসফট এক্সেলে পারদর্শিতা থাকা আপনাকে অনেকটা এগিয়ে দেবে।

টাইপিং          

ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য টাইপিং অত্যাবশ্যকীয়। আপনাকে শুধু টাইপ করা জানলেই হবে না, আপনি কত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে টাইপ করতে পারেন, সেটার ওপর নির্ভর করবে আপনার উপার্জন। মনে রাখতে হবে, ভুল তথ্য টাইপের জন্য আপনি কোনো টাকা পাবেন না। তাই কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই নিজের টাইপ করার ক্ষমতা যাচাই করে নিন।

Source: dedeleads.com

পেশাদার টাইপিস্টদের যদি লক্ষ করে থাকেন, তাহলে দেখবেন তাদের কাজের সময় কীবোর্ডের দিকে তাকানোর প্রায় প্রয়োজনই হয় না। ডাটা এন্ট্রির কাজে এমন দক্ষতা খুবই কাজে দেবে। এর ফলে আপনি দ্রুত তথ্য লিখতে যেমন পারবেন, তেমনি সেগুলো নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকবে। কিন্তু এমন দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনার প্রচুর চর্চা প্রয়োজন।

প্রথমদিকে হয়তো আপনাকে কাগজের তথ্য দেখে, কীবোর্ডের দিকে তাকিয়ে টাইপ করে তারপর মনিটরে সেটি যাচাই করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই আপনার গতিও কম থাকবে এসময়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত চর্চা করতে থাকেন, তাহলে একসময় আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন।

প্রথমদিকে হয়তো আপনাকে কাগজের তথ্য দেখে, কীবোর্ডের দিকে তাকিয়ে টাইপ করে তারপর মনিটরে সেটি যাচাই করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই আপনার গতিও কম থাকবে এসময়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত চর্চা করতে থাকেন, তাহলে একসময় আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন।

টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়ম মেনে টাইপ করে। যারা নিয়ম মানে না, লক্ষ করে দেখবেন তাদের অধিকাংশই টাইপিং এর সময় দুই হাতের কেবল দুইটি আঙুল ব্যবহার করছে। ফলে গতিও তাদের অনেক কম হয়। কিন্তু নিয়ম মেনে টাইপ করলে দু’হাতের প্রায় সবগুলো আঙুলই ব্যবহৃত হয়। তাই গতিও অনেক বেড়ে যায়। নিয়ম মেনে টাইপ শেখার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার রয়েছে। আপনি সেগুলোর সাহায্য নিতে পারেন।

বাস্তবে কাজের অভিজ্ঞতা

অনেকেই টাইপিংটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে শুধু টাইপ করতে থাকে। কিন্তু কেবলমাত্র এভাবে চর্চা করলে আপনি হয়তো ভুল পথে চলে যেতে পারেন। কখনো ভুলবেন না, একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ ডাটা দেখে সেগুলোকে টাইপ করা। তাই আপনাকেও তথ্য দেখে দেখে দ্রুত টাইপ করার অভ্যাস করতে হবে।

নিউমেরিক কিপ্যাডে দক্ষতা

ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য অক্ষর টাইপের সাথে সাথে সংখ্যা টাইপেও সমান দক্ষ হতে হবে। কারণ অনেক সময়ই বিভিন্ন সংখ্যা তথ্য হিসেবে এন্ট্রি করতে হয়। কম্পিউটারের কীপ্যাডের ডান পাশে সংখ্যা সম্বলিত নিউমেরিক কীপ্যাড রয়েছে। প্যাডে অক্ষরের ওপরেও সংখ্যার কী রয়েছে। কিন্তু এই নিউমেরিক কীবোর্ডে কীগুলো ওপরে-নিচে সুবিন্যস্ত থাকায় টাইপ করা সুবিধাজনক হয়। এখানেও আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

জবসাইট পর্যবেক্ষণ

ডাটা এন্ট্রির কাজগুলো মূলত বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রিল্যান্স্যার, ওডেক্স, গুরু, এলাঞ্চ ইত্যাদি। এসব সাইটে নিয়মিত কাজের অফার আসে। রেজিস্টার করে আপনাকে এসব সাইটে প্রবেশ করতে হবে।

প্রথমেই কাজ পাওয়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করুন। কাজের ধরন, বর্ণনা, অন্য সদস্যদের প্রস্তাব ইত্যাদি দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। এসব সাইটে ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়ার জন্য অনেক প্রতিযোগিতা থাকে। তাই অভিজ্ঞতা অর্জন করে ক্লায়েন্ট এবং আপনার দুজনের সুবিধামতো প্রস্তাব দিতে পারলেই কেবল কাজটি আপনি পেতে পারেন। তাই কাজ পাওয়ার জন্য গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ।

Source: needdevelopers.com

সবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না দিলেই নয়। ডাটা এন্ট্রির কাজ করার জন্য আপনার ইন্টারনেটকে কিন্তু অবশ্যই দ্রুতগতি সম্পন্ন হতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলেই প্রস্তুতি নিয়ে নেমে পড়ুন কাজে। ডাটা এন্ট্রির কাজের জগৎ রয়েছে আপনার অপেক্ষায়।

Featured Image: Upwork

Written by Sizan Ahmed Jim

Comments

Leave a Reply
  1. Somebody necessarily help to make seriously articles
    I’d state. This is the very first time I frequented your website page
    and up to now? I amazed with the research you made to create this particular publish amazing.
    Excellent activity!

  2. Thanks for a marvelous posting! I really enjoyed reading it, you may be a great author.I will remember
    to bookmark your blog and may come back sometime soon. I want to encourage you
    to ultimately continue your great posts, have a nice holiday weekend!

  3. Whoa! This blog looks just like my old one! It’s on a totally different
    topic but it has pretty much the same layout and design. Great choice of
    colors!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ

স্মার্ট মার্কেটিংয়ের উত্থান ও এর প্রয়োজন