in

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফলতার উপায়গুলো জেনে নিন

যখন গবেষণার মাধ্যমে বাজারে কোনো দ্রব্য বা পণ্যের আগমন ঘটে, তখন সেটাকে মার্কেটিং বলে। বর্তমান সময়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি সরব থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে জমে উঠেছে অনলাইন বিজনেস, যাকে মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং বলে। উন্নত দেশগুলোতে ইতোমধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং খুব ভালো একটা অবস্থানে চলে গেলেও আমাদের দেশে এর চাহিদা খানিকটা কম।

ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরটি অন্য সেক্টরগুলো থেকে তুলনামূলক সহজ।

Source: Digital marketing institute

হাতের কাছে সামাজিক মাধ্যমগুলো থাকায়, খুব কম খরচে, কম সময়ে, ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করা যায়।

সময় পাল্টে যাবার সাথে সাথে দৈনন্দিন কনসেপ্টগুলোও কী ভীষণ পাল্টে যাচ্ছে! এখন আপনার পড়াশোনা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কেনাকাটাটুকু পর্যন্ত, ঘরে বসে অনলাইনের কল্যাণে করা সম্ভব হচ্ছে। যার আদ্যোপান্তে আছে একটি সিস্টেম,যার নাম ডিজিটাল মার্কেটিং।

গতানুগতিক চিন্তা বা সিস্টেমের বাইরে গিয়ে, আমরা চাইলেই ডিজিটাল মার্কেটিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারি। যার জন্য অবশ্যই কিছু দিক নির্দেশনা প্রয়োজন। কথা না বাড়িয়ে  তবে চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়।ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আছে যা অত্যন্ত দরকারি এবং আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং কর‍তে চাইলে অবশ্যই সে পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে ধারনা রাখা উচিত।         

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

Source: serachenglineland.com

সার্চ ইঞ্জিন কী, সেকথা আমরা সবাই কমবেশি জানি, কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে সবাই বিস্তারিত জানি কিংবা বুঝি না। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সাধারণত গুগল, ইয়াহু বিং বা অন্যান্য অনুসন্ধান বা সার্চের রেজাল্টগুলো পর্যালোচনা করে থাকে।

বর্তমান ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে এই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই সিস্টেমটি আপনার পণ্যকে গুগল সার্চে সবার উপরে নিয়ে আসতে পারে। সার্চে আপনার পণ্য টপ করলে ব্যবসায়ও টপ করার সুযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। খুব সাধারণভাবে চিন্তা করলেই আপনি দেখতে পাবেন, আমরা যখন কোনো জিনিসের নাম শুনি, অথবা কোনো জিনিস আমাদের দরকার পড়ে, তখন আমরা কী করি? গুগলে সার্চ করি। এখন সার্চের কোন অংশটুকুতে আমাদের ভালো নজর থাকে? অবশ্যই শুরুর দিকে, ঠিক তদ্রূপ আপনিও মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এই ব্যপারটি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।  

 সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

সোশ্যাল মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো  বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত। আমরা এখন যতো সহজে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি একটা সময় হয়তো সেটা কল্পনারও বাইরে ছিলো। Facebook, Twitter, Instagram, Google Plus সাইটগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ সাইট। এসব সাইটে প্রচুর মানুষের আনাগোনা ঘটে। এই সাইটগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার অনলাইন বিজনেসকে চাঙ্গা করে নিতে পারেন।

এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করা বা যে সিস্টেম অনুসরণ করে আমরা অনলাইনে প্রচার প্রচারণা চালাই, তাকেই মূলত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলা হয়। সোশ্যাল মার্কেটিং মূলত দু’প্রকার- পেইড মার্কেটিং এবং ফ্রি মার্কেটিং। পেইড মার্কেটিং মূলত অনলাইন প্রমোট সিস্টেমটি।

যে সিস্টেমে আপনি টাকা খরচ করে আপনার পণ্যগুলোকে প্রচার-প্রচারণার আওতায় নিয়ে আসতে পারেন। অন্যদিকে ফ্রি মার্কেটিং সিস্টেমে আপনি বড় বড় পেইজ কিংবা গ্রুপে পোস্ট অথবা কমেন্ট করে বিনা খরচে আপনার পণ্যগুলোর প্রচারণা করতে পারেন।  

ে সিস্টেমে আপনি টাকা খরচ করে আপনার পণ্যগুলোকে প্রচার-প্রচারণার আওতায় নিয়ে আসতে পারেন। অন্যদিকে ফ্রি মার্কেটিং সিস্টেমে আপনি বড় বড় পেইজ কিংবা গ্রুপে পোস্ট অথবা কমেন্ট করে বিনা খরচে আপনার পণ্যগুলোর প্রচারণা করতে পারেন।  

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেমটি হচ্ছে, আপনার পণ্য না থাকা সত্ত্বেও মার্কেটিং করা। ধরুন, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলোকে আপনি আপনার পেজে প্রমোট করে দেবার পর ওদের কিছু পণ্য বিক্রি হলো, বিক্রিত পণ্যের মূল্য থেকে সে প্রতিষ্ঠান আপনাকে কিছু টাকা দেবে, এটিই মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। শুরুর দিকে খুব সামান্য অর্থ উপার্জিত হবে, তবে ধৈর্য ধরে কাজ এগিয়ে নিলে একটা সময় ভালো টাকা উপার্জন করা সম্ভব হয়। 

কন্টেন্ট মার্কেটিং

বর্তমান সময়ে আরেকটি লাভজনক ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টর হচ্ছে কন্টেন্ট সেক্টর। কন্টেন্ট সেক্টরটি মূলত ব্লগ পোস্ট, ভিডিও, ই-বুক ইত্যাদির আওতাধীন। সহজভাবে বললে, কন্টেন্টের মার্কেটিংকে কন্টেন্ট মার্কেটিং বলে।

ভাইরাল মার্কেটিং

অমুক ভাইরাল তমুক ভাইরাল, রাতারাতি আলোচিত সমালোচিত, এই কথাগুলো শুনতে শুনতে ইদানীং আমরা সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অনেকেই মজা করে বলে, বর্তমান যুগ নাকি ভাইরালের যুগ।

Source: lcibs.co.uk

আসলে এতে মজা করা বা মজা পাবার কিছু নেই। আপনার প্রতিষ্ঠান যে অবস্থানেই থাকুক না কেন তার জন্য আপনার অবশ্যই অবশ্যই ভাইরাল কন্টেন্টের দরকার পড়ে। এ সিস্টেমে আপনার তেমন কোনো কষ্ট নেই, মানুষই ভাইরাসের মতো আপনার কন্টেন্টটি ছড়িয়ে দিবে। ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি সাইটগুলোতে অ্যানালিটিকস নামে একটি অপশন থাকে, যা দিয়ে আপনি প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন যে, আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন কিংবা কোনো কন্টেন্ট কেন ভালো পারফর্ম করছে অথবা কেন করছে না। ভাইরালিটির ক্ষেত্রে পোস্ট করার সময়, ক্যাপশন, ইমেজ ব্যাপারগুলোও খুব ভালো অবদান রাখে।

ইমেইল মার্কেটিং

ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি ডিজিটাল মার্কেটিং সিস্টেম, যা আপনার বিজনেসকে দেশের বাইরেও ভালো পারফর্ম করার নিশ্চয়তা দিতে পারে। ইমেইল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম এবং সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মানুষের ইমেইল যোগাড় করা। বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কম মূল্যে ভালো পণ্য দিতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি ভালো কিছু করা সম্ভব।

সবশেষ কথা হচ্ছে, আমাদের প্রত্যেকের মাথায় রাখতে হবে, ধৈর্য ছাড়া পৃথিবীর কোনো কাজে’ই সফলতা আসে না। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরের কেউ হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই ধৈর্যকে মূলমন্ত্র ধরে সামনে এগোতে থাকুন, সফলতা আসবেই আসবে!

Featured Image Source: MightyBytes

Written by Sonjoy Datta

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

বেকারত্ব দূরীকরণে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন এবং ক্যারিয়ার গড়ুন

অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য সেরা পাঁচটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম