in

বেকারত্ব দূরীকরণে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন এবং ক্যারিয়ার গড়ুন

‘ডিজিটাল’ শব্দটির সাথে ইতোমধ্যেই আমরা বেশ পরিচিত হয়ে গেছি, তা-ই না? কিন্তু ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ আসলে কী? মূলত আপনার কোনো পণ্য বা সেবা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়াই হলো ডিজিটাল মার্কেটিং।

বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। এবং দেশের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের আধিপত্য বিস্তার করতে হবে, যা আমাদের দেশের বেকারত্বের সমস্যা সমাধান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বেশ সহায়তা করবে। আর এসবের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

Source: Marketing And Growth Hacking

ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব

ইতোমধ্যেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিপণন মাধ্যম ডিজিটালাইজড হয়ে গিয়েছে। আমাদের দেশও ধীরে ধীরে সেই পথেই এগোচ্ছে। অর্থৎ ভবিষ্যতে আমাদের জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় সিংহভাগ কার্যক্রমই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আওতায় চলে যাবে। আপনি না চাইলেও আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেই সেবা প্রদান ও গ্রহণ করতে হবে। কারণ পুরো বিশ্ব যেখানে ডিজিটাল সেবার দিকে ছুটছে, সেখানে আপনি নিজেকে অ্যানালগ রেখে জীবন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবেন না।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার মোক্ষম সময় এখনই। কারণ বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে চাহিদা অনুযায়ী খুব কম সংখ্যকই দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার রয়েছে।

অতএব ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার পর চাইলে আপনি নিজেই কোনো ব্যবসা শুরু করতে পারেন অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানেও ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে চাকরি করতে পারেন। সাধারণত আমাদের দেশে একজন ডিজিটাল মার্কেটারের গড় বেতন বছরে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং আপনার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও আপনার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এর পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। এছাড়াও ডিজিটাল মার্কটিংয়ের মাধ্যমে আপনি শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, ভ্রমণসহ যেকোনো খাতে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

যেকোনো স্থান থেকে কাজ করার সু্বিধা

আপনি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি খাতে মোটামুটি অভিজ্ঞ হওয়ার পর আপনি চাইলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত হতে যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে বা কাজ করতে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি যেকোনো জায়গা থেকে কোনো নির্দিষ্ট খাতে মোটামুটি ধারণা নিয়েই কাজ শুরু করতে পারবেন এবং একবার কাজ শুরু করলে এখান থেকে প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখতে থাকবেন।

প্রয়োজন স্বল্প বিনিয়োগ

Source: Multichannel Merchant

আপনি যেহেতু নতুন, তাই স্বাভাবিক অর্থেই কোনো ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি যদি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হয়ে থাকেন এবং নিজস্ব কোনো ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে আপনি খুব অল্প পরিমাণ পুঁজিতেই আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসায়ের জন্য ওয়েবসাইটের একটি যথোপযুক্ত ডোমেইন নাম ও হোস্টিং প্রয়োজন হবে, যা স্বল্প খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব।

একইসাথে বিকল্প কাজ করার সুবিধা

আপনি যদি পার্ট-টাইম কোনো চাকরি করেন এবং তার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে কিছু করতে চান, তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিংই আপনার জন্য সর্বোত্তম মাধ্যম। মনে করুন, আপনি কোনো একটি ক্যাফেতে কাজ করেন এবং ইতোমধ্যেই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে মোটামুটি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাহলে আপনি আপনার ঐ কাজ শেষে আপনার ব্যবসার ওয়েবসাইট বা ব্লগে কাজ করতে পারবেন। যেহেতু ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। আপনার সুবিধা অনুযায়ী যখন ইচ্ছা কাজ করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বিকল্প কাজসমূহ

১. নিজের ব্লগ শুরু করুন

Source: Medium

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার পর আপনি নিজের ব্লগ শুরু করতে পারেন। সেটা যেকোনো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে, আপনি যদি আপনার আগ্রহ বা অভিজ্ঞতা আছে, এমন কোনো বিষয়ের উপর কাজ করেন। এক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ের উপর বিস্তর গবেষণা করুন এবং লিখতে থাকুন। তবে আপনাকে অবশ্যই এটাও গবেষণা করতে হবে যে বাজারে কোন ধরনের ব্লগের চাহিদা বেশি এবং পাঠকেরা কী ধরনের ব্লগ পড়তে চায়।

আপনি চাইলে ভ্রমণ, ফটোগ্রাফি, বিপণন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্লগ লিখতে পারেন। আপনি বিখ্যাত কিছু ব্লগারের সাইটগুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে পারেন, কেন তারা ভালো ট্রাফিক পাচ্ছে। এবং ব্লগটির জন্য কিছু এসইও করতে পারেন, যা আপনার ব্লগটিকে সার্চ ইঞ্জিনে উপরের র‍্যাংকে রাখবে।

২. হয়ে উঠুন একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার

আপনি যদি কোনো পণ্যের পর্যালোচনায় আগ্রহী থাকেন, তাহলে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি কাজ। এক্ষেত্রে আপনাকে কোনো কোম্পানির নির্দিষ্ট কোনো পণ্য সম্পর্কে ব্লগ লিখতে হবে এবং ব্লগে সেই পণ্যটির লিংক যুক্ত করে দিতে হবে। পাঠক যদি আপনার ব্লগের মাধ্যমে কোনো পণ্য পছন্দ করে এবং ব্লগে যুক্ত লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করে, তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠান সেই পণ্য হতে নির্দিষ্ট পরিমাণ লভ্যাংশ আপনাকে পেমেন্ট করবে।

৩. হয়ে উঠুন একজন কনটেন্ট রাইটার

আপনি যদি শুধুমাত্র লেখালেখিতেও ভালো হয়ে থাকেন, তাহলেও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে আপনি ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন৷ বিভিন্ন স্টার্টআপ কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও প্রসারের জন্য কনটেন্ট রাইটারের বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খোলার মাধ্যমেও কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ করতে পারেন।

Source: Marketing Lancers

সবশেষে বলতে চাই, জীবনে সফলতার একটি দরজা বন্ধ হয়ে গেলে, আরেকটি দরজা স্বয়ংক্রিয় ভাবে খুলে যায়৷ বলতে পারেন, তার মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং অন্যতম একটি। ডিজিটাল মার্কেটিং এমন একটি কর্মক্ষেত্র, যার মূল্যায়ন দিন দিন বাড়তেই থাকবে, কমবে না কখনো। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সিদ্ধান্তটি আপনার জীবনের সেরা একটি সিদ্ধান্ত হবে।

Featured Image: Pinterest

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ব্যবহৃত জিনিস বিক্রির ৭টি সেরা ওয়েবসাইট

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফলতার উপায়গুলো জেনে নিন