in

এইচটিএমএল এর আদ্যোপান্ত

আমরা সাধারণত ইন্টারনেট ব্যবহার বলতে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যাওয়াকেই বুঝি। বিষয়টা একদমই তা-ই। কম্পিউটারে কম্পিউটারে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যে বিশাল ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করেই আমরা সেটা থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। বর্তমানে সারা পৃথিবী বিভিন্ন সার্ভারে কয়েক মিলিয়ন ওয়েবসাইট সংরক্ষণ করা আছে।

মনে প্রশ্ন জাগে, এই ওয়েবসাইটগুলো কীভাবে তৈরি হয়? ওয়েবসাইট নির্মাণের ইট হিসেবে অর্থাৎ প্রধান মাধ্যম হিসেবে আমরা ধরতে পারি এইচটিএমএলকে (HTML)। এইচটিএমএল হলো একটি ভাষার মতো। তবে এটি কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা নয়, মার্কআপ ভাষা। এর পুরো অর্থ হছে হাইপার টেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ। ওয়েব ডেভেলপারদের এই ভাষাটি অবশ্যই শিখতে হয়। কেননা এই ভাষা দিয়েই তো একটি ওয়েবপেজ গড়ে ওঠে।

Source: Website builder

সুতরাং এইচটিএমএলের মূল কাজই হলো বিভিন্ন এইচটিএমএল ডকুমেন্ট বা ওয়েবপেজ তৈরি করা। এই ওয়েবপেজগুলোই পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্রাউজারে কাজ করে। ওয়েবপেজ তৈরি করা ছাড়াও পেজের কন্টেন্টগুলোকে সাজানো, ডিজাইন করা এবং পেজের বহিরঙ্গও এইচটিএমএলের সাহায্যে নির্মাণ করা হয়।

এইচটিএমএলের ইতিহাস

এইচটিএমএল নির্মাণ করেছেন টিম বার্নাস লী। এটি তৈরির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আদানপ্রদান করা। ১৯৯০ সালে NCSA ডেভেলপ করা মোজাইক ব্রাউজারের মাধ্যমে এইচটিএমএল বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে এইচটিএমএলের বিভিন্ন সংস্করণ প্রকাশিত হতে থাকে। বর্তমানে প্রচলিত এর সর্বশেষ সংস্করণ HTML5 প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এই সর্বশেষ সংস্করণে এইচটিএমএলের সকল নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে এটি শিখলেই আগের সংস্করণগুলোও শেখা হয়ে যাবে।

Source: Oxford Web Studio

এইচটিএমএল ভাষা সম্পর্কে জানার জন্য এইচটিএমএলের তিনটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হচ্ছে- এইচটিএমএল ট্যাগ, এলিমেন্ট এবং অ্যাট্রিবিউটস। আসুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

এইচটিএমএল ট্যাগ

এইচটিএমএলে প্রোগ্রাম লেখার জন্য <>  এবং </> এই দুটি চিহ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চিহ্নের মাঝে বিভিন্ন শব্দ যেমন head, title, body ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এই চিহ্ন এবং শব্দের মিলিত বিষয়টিকেই বলা হয় ট্যাগ। এসব ট্যাগের মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করা হয়। এইচটিএমএল ভাষার বাক্যের শুরুর ট্যাগ হলো <> এবং শেষের ট্যাগ হলো </> । একটি ওয়েবপেজের প্রত্যেকটি অংশ যেমন- টাইটেল, কন্টেন্ট, লেখার ফন্ট ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদাভাবে ট্যাগ ব্যবহার করে নির্দেশ দিতে হয়।

এইচটিএমএল এলিমেন্ট

এইচটিএমলের বিভিন্ন শুরু এবং শেষ ট্যাগ ও এই দুই ট্যাগের মাঝের অংশকে মিলিতভাবে বলা হয় এলিমেন্ট।একটু উদাহরণ দিয়ে সহজ করা যাক। <m>This is monograph</m>। এই পুরো বিষয়টিই হলো একটি এলিমেন্ট। <p> এখানে শুরু ট্যাগ, </p> শেষ ট্যাগ এবং This is a paragraph হলো ইলিমেন্ট কন্টেন্ট।

অনেক সময় শুরু ট্যাগ থাকলেও শেষ ট্যাগ থাকে না। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ কোনো ইলিমেন্ট কন্টেন্ট থাকে না। তবে এসব ক্ষেত্রে শুরুর ট্যাগের মাঝেই / চিহ্নটি থাকে।

এইচটিএমএল অ্যাট্রিবিউটস

এইচটিএমএল ভাষায় অ্যাট্রিবিউটস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এইচটিএমএল ট্যাগে ক্ষমতাকে বাড়ানোর জন্যই অ্যাট্রিবিউটস ব্যবহার করা হয়। অ্যাট্রিবিউটস এলিমেন্টের আনুষঙ্গিক নানা তথ্য প্রকাশে সহায়তা করে। যেমন < font size= “10” colour= “red”>This is monograph</font>। এখানে size= “10” হলো ফন্ট ট্যাগের একটি অ্যাট্রিবিউট। এটি নির্দেশ করছে this is a monograph লেখাটির ফন্ট সাইজ কত হবে। এভাবেই প্রত্যেক ট্যাগের মধ্যে বিভিন্ন খুঁটিনাটি অ্যাট্রিবিউটস যোগ করে একটি ওয়েবপেজ সাজানো হয়।  

এইচটিএমএলের সুবিধা

এইচটিএমএল ব্যবহার করে খুব সহজেই ওয়েবপেজ তৈরি করা যায়। প্রায় সকল ব্রাউজারই এইচটিএমএল সাপোর্ট করে। ফলে এইচটিএমএল দিয়ে তৈরি করা ওয়েবপেজ খুব সহজেই ব্রাউজ করা যায়। ওপরের উদাহরণ থেকেই নিশ্চয়ই কিছুটা আন্দাজ পেয়েছেন যে, এটি শেখা এবং ব্যবহার করা খুব সোজা।

এইচটিএমএল তৈরিই হয় ট্যাগ ব্যবহার করে। তাই প্রয়োজনীয় ট্যাগগুলো মনে রেখে খুব সহজেই এর সাহায্যে ওয়েবপেজ তৈরি করা যায়। এইচটিএমএল দিয়ে তৈরি করা ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ। পাশাপাশি এর সাইজ কম হওয়ায় এটি অনেক সাশ্রয়ীও। এইচটিএমএল ডকুমেন্টের হাইপারলিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে সহজে অন্য ওয়েবসাইটে যাওয়া যায়।

Source: bloglogbook.com

এইচটিএমএলের অসুবিধা

এইচটিএমএলের সাহায্যে ডায়নামিক পেজ খোলা যায় না। সাধারণত স্ট্যাটিক পেজ তৈরির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। এইচটিএমএলের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল, এটি ব্যবহার করে ওয়েবপেজ খুলতে অনেক বেশি কোড লিখতে হয়। এটি একদিকে যেমন অনেক সময় সাপেক্ষ, তেমনি ক্লান্তিকরও। এইচটিএমএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে অনেক দুর্বল। ফলে বর্তমান হ্যাকিং প্রবণতার যুগে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে সেটার মালিকদের সবসময়ই চিন্তিত থাকতে হয়। 

এইচটিএমএলের এমন কিছু অসুবিধা থাকার পরও সারা বিশ্বব্যাপী এইচটিএমএল তুমুল জনপ্রিয়। ব্যবহার করা সহজ বিধায় সকল ওয়েবসাইট নির্মাতার কাছে এটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ভবিষ্যতে যারা ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের কাছে এইচটিএমএল আদর্শলিপির মতো। কিন্তু লেখার এই ছোট্ট পরিসরে এইচটিএমএল সম্পর্কে বিস্তারিত আলাপ করা সম্ভব নয়। এটি ভালভাবে আয়ত্ত্ব করতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সাথে অনেকখানি চর্চা। এছাড়া ইউটিউবে এবং অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এইচটিএমএলের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল রয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীরা সেখান থেকেও শুরু করতে পারেন এইচটিএমএল ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম।    

Featured Image: makeuseof.com

Written by Sizan Ahmed Jim

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

কেন শিখবেন ফটোশপ?

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ