in

উদ্যোক্তা মনোভাব যেভাবে আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবে

পুরো জীবনটাই একটা চ্যালেঞ্জের নাট্যমঞ্চ। যে অভিনেতা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিনয় করে যেতে পারেন, দিন শেষে তিনিই সেরা অভিনেতা হিসেবে গণ্য হন। সেই হিসেবে জীবনে সবচেয়ে বেশি  চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় উদ্যোক্তাদের। আর তারা নিজেদেরকে এমনভাবেই পরিচালনা করেন যে, নিত্যনতুন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও পিছুপা না হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান তারা। জীবনযুদ্ধে ময়দানে তারাই হয়ে উঠেন শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। আর আপনিও যদি আপনার জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে চান তাহলে আপনার জীবনটাকেও একজন উদ্যোক্তা মনোভাবাপন্ন হয়েই পরিচালনা করতে হবে।

১. বিশ্বাস করুন, সবকিছুই সম্ভব

জীবনে সফল হতে হলে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে আপনার দ্বারা যে কোনো কিছু সম্ভব। এটি আপনার হৃদয়ের ধারণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, যখন আপনি নিজেকে নিয়ে একটি স্বপ্ন দেখেন এবং বিশ্বাস করেন যে আপনার দ্বারা তা সম্ভব, তখনই সেই স্বপ্নটি অর্ধেক বাস্তবায়নের পথে থাকে। অতএব আপনার স্বপ্নটা কত বড় সেটা কোনো বিষয় না, আপনি আপনার স্বপ্নটাকে কতটুকু বিশ্বাস করেন সেটাই মূল বিষয়। আর নিজের প্রতি এই বিশ্বাসই আপনার জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো নিতে সাহায্য করবে। এবং সঠিক সময়ে সঠিক  সিদ্ধান্তগুলোই আপনাকে সফলতা এনে দিবে।

২. ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা

creativedentalcare.com

এযাবত সফলতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানো প্রত্যেকটি উদ্যোক্তাই তাদের জীবনে বড় বড় ঝুঁকি নেওয়ার মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে এসেছেন। তাদের লক্ষ্যই ছিল সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছানো, আর সেখানে পৌঁছাতে যা যা করা দরকার তারা তা-ই করেছেন। তারা কখনো ভাবেনি ‘মানুষ কী ভাববে’, তারা কখনো নিজেদের প্রতি সন্দেহ পোষণ করেনি ‘আমি পারবো তো?’

আপনি যেহেতু আপনার ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন না, অতএব ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে তা সম্পর্কে আপনি ধারণাও করতে পারবেন না। তাই, ‘আমি পারবো কি না’ এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখুন, সেই স্বপ্ন পূরণে যা যা করা প্রয়োজন অথাৎ ঝুঁকি নিন এবং সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করতে থাকুন। আপনিও জীবনে কোনো একদিন সফলতা চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে পারবেন.

৩. সমস্যার সমাধান

একজন উদ্যোক্তা যেকোনো বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করার আগে তা নিয়ে প্রচুর পরিমাণ গবেষণা করে থাকেন। আর গবেষণার মূল বিষয়বস্তু অথাৎ গবেষণা হতে একজন উদ্যোক্তা যা সনাক্ত করার চেষ্টা করেন তা হলো, উক্ত কাজটি শুরু করার পর থেকে সম্পন্ন করা অবধি কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, কোন সমস্যাটি কীভাবে সবচেয়ে সর্বোৎকৃষ্ট উপায়ে সমাধান করা যেতে?

এসব কিছু গবেষণা করার পরই একজন উদ্যোক্তা তার পরিকল্পনা সাজিয়ে থাকেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। পথিমধ্যে যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তা দ্রুতই সমাধান করতে পারেন, কারণ তিনি গবেষণার মাধ্যমে পূর্বেই সেই সমস্যা সমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তার উৎকৃষ্ট সমাধানও বের করেছিলেন।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সমস্যা থাকে এবং দিন দিন নতুন নতুন সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, আর তখনই আমরা বিপাকে পড়ে যাই। অতএব জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এটা আমরা প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু ক’জনই বা একজন উদ্যোক্তার মতো করে পূর্বেই সেই সমস্যা সমাধানে কাজ করে থাকি?

তাই জীবনে সফল হতে হলে সমস্যায় সম্মুখীন হওয়ার আগেই সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং সমস্যায় সম্মুখীন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব উৎকৃষ্ট উপায় সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

৪. নতুন কিছু শেখার প্রবণতা

আজকের দিনটা আপনার কাছে বর্তমান, কিন্তু কালকের দিনটা আপনার কাছে অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন একটি দিন। আর আপনি নতুন দিনে নতুনত্বকেই বেশি প্রধান্য দিবেন এটাই স্বাভাবিক। আর উদ্যোক্তারা এই সূত্রটিকেই কাজে লাগিয়ে আপনার-আমার চাহিদা অনুযায়ী নিত্যনতুন সব আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে নতুন নতুন সব সেবা প্রদান করছে। আমরাও নতুনত্বকে খুব ভালো ভাবেই গ্রহণ করে আসছি।

আচ্ছা ঐ সব উদ্যোক্তারা কি এমনি এমনিই নিত্যনতুন সব আইডিয়ার জন্ম দিয়ে থাকেন? কখনই না, তারাও সময়ের সাথে সাথে নতুন কিছু করতে ভালোবাসে। সেই ভালোবাসাই তাদের নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। অতএব আপনাকেও নতুনত্বকে গ্রহণ করে নিতে হবে, সময়ের সাথে সাথে নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার প্রবণতা থাকতে হবে। তবেই আপনি সময়ের সাথে নিজেকে  মানিয়ে নতুন কিছু করার মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

৫. ব্যর্থতাকে গ্রহণ করা

YouTube

আমরা সবসময়ই একজন উদ্যোক্তার সফলতাগুলো দেখতে পাই। কিন্তু সাফল্যেই এই চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে একজন উদ্যোক্তাতে কতটা পরিশ্রম, ত্যাগ স্বীকার ও ব্যর্থতার ঘানি টানতে হয় তা উপলব্ধি করতে পারি না। একজন উদ্যোক্তা এমনি এমনিই সফলতার সিংহাসনে বসতে পারে না। একজন উদ্যোক্তা কখনই প্রথমবারেই সফল হতে পারে না। তার সফলতার পেছনে অনেক গল্প থাকে। তার মধ্যে ব্যর্থতার গল্প অন্যতম। একজন উদ্যোক্তা ব্যর্থতা নিয়ে কখনো পিছপা হয় না। ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে চেষ্টা ও পরিশ্রম করে যায় সফলতার জন্য। একটা সময় ঠিকই সে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

জীবনে চলতে গেলে ব্যর্থতা আসবেই। তাই বলে ব্যর্থতার কাছে হেরে গিয়ে পিছপা হলে চলবে না। ব্যর্থতার পরই আরেকটি গল্পের শুরু হয়, তা হলো সফলতার গল্প। ব্যর্থ হলে ধৈর্যহারা না হয়ে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সফলতা নিজে এসে আপনার কাছে ধরা দিবে।

ফিচার ইমেজ- Entrepreneur Network Los Angeles

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

একটি পণ্যকে বাজারে আনার ধাপগুলো জেনে নিন

স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগে জেনে নিন ১০টি আইনী পরামর্শ