in

প্রতিষ্ঠানের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলা করবেন কীভাবে?

অনেক উদ্যোক্তা, বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতাগণ যখন
প্রথমবারের মতো কোনো ব্যবসার চেষ্টা করেন তখন তারা সামনের
সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে এতটাই উৎসাহিত থাকেন যে, কঠিন সমস্যাগুলো
নিয়ে ততটা ভাবেন না। আর এ সমস্যাগুলো হতে পারে দুর্বল বাজার বিশ্লেষণ,
ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ও আইনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে। যদিও তারা এই সমস্যাগুলো
নিয়ে বিবেচনা করে থাকে, তবে প্রায়শই ঝুঁকিগুলো আসে অপ্রত্যাশিত দিক থেকে। নিম্নে মার্কেটিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি কমানোর কিছু কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

১. ওয়েবসাইটের শর্তাবলী মেনে চলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা

অনেক ব্যবসায়িক মালিকগণ ওয়েবসাইটের শর্তাবলীকে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন, যা খুব দ্রুত পরিহার করা উচিত। এটি আপনার প্রতিষ্ঠানের একটি ক্ষতিকর দিক। কারণ আপনাকে অবশ্যই তাদের আইনগুলো অনুসরণ করতে হবে।

Source: www.traverselegal.com

আর এ ক্ষেত্রে আপনি যদি অবহেলা করে থাকেন তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠান আইনী ঝুঁকি ও জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে, যা আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিষয়টি কতটা
গুরুত্বপূর্ণ তা ‍ধারণাই করতে পারছেন। অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে কোনো কিছু কপি করাটাও একটি বড় অপরাধ। কারণ এটি এক ধরনের চুরি ও কপি রাইট আইনের লঙ্গন।
এগুলো ছাড়াও, আপনি যদি ওয়েবসাইটের শর্তাবলী ভালো করে না পড়েন ও এগুলো
পালনে অবহেলা করেন তাহেলে আপনি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখিন সম্মুখীন হবেন।

২. টরেন্ট ব্যবহারে কর্মীদের সচেতন থাকা

টরেন্টের অবশ্যই বেশ কয়েকটি আইনী প্রয়োগ রয়েছে। তবে আমরা সে আইনগুলোর যে অংশটুকু জানি ও বুঝি তা বিশাল সমুদ্রের মাঝে একটি বিন্দুর মতো। যার ফলে আইনি দিকগুলো সম্পর্কে আমরা অজ্ঞই থেকে যাই। সমস্যাটি হলো, যখন কোনো ব্যক্তি একা টরেন্টের মাধ্যমে অবৈধভাবে তথ্যসমূহ ডাউনলোড করে থাকেন, তখন সে একাই আইনী সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়। তবে যখন আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট হার্ডওয়ার ব্যবহার করে এই কাজটি করা হয়ে থাকে, তখন পুরো প্রতিষ্ঠানটিই কপিরাইট আইনের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। ভিপিএন ব্যবহার করে এই ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস করা যায়। তবে আপনার কর্মীরা সেটা কীভাবে ব্যবহার করছে, তার উপর নজর রাখাটাই সবচেয়ে ভালো।

Source: reloadrefresh.blogspot.com

কপিরাইট সমস্যা ছাড়াও কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখান থেকে টরেন্টের মাধ্যমে ডাউনলোড করার সময় ম্যালওয়ার ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে। যদি আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ম্যালওয়ার ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সেটা বেশ বিরক্তিকর। তবে এই বিষয়টি যখন আপনার পুরো কর্পোরেট নেটওয়ার্কে ঘটবে, তখন তা আপনার  প্রতিষ্ঠানকে বিপর্যয়ের মুখোমুখি করবে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কিং ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।

৩. নির্যাতন বিরোধী আইন

অনেক রাষ্ট্রে কর্মস্থলে কর্মীদের নির্যাতন বিরোধী আইন রয়েছে। যদিও হুমকির অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং পরিচালকদের বিরুদ্ধে হয়ে থাকে। তবে এর আইনি প্রক্রিয়া গুলো আর্থিক ব্যয়, সময় ব্যয় ও কর্মীদের উপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর।

এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য এমন একটি সুযোগ রাখতে হবে, যাতে তারা নির্যাতনের বিষয়টি আপনার অথবা আপনার প্রতিনিধির কাছে পৌঁছাতে পারে। এমনকি এই বিষয়গুলো আপনি আপনাকে খুব গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

৪. কর্মীদের পদবী

প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিক ভাবেই নতুন বিভাগ (বিক্রয়, বিপণন ইত্যাদি) তৈরী করে। কিছু প্রতিষ্ঠান খ্যাতিসংক্রান্ত দিক বিবেচনা করে এমন ঝুঁকি নেয় যে, তারা প্রতিষ্ঠানে কিছু চিত্তাকর্ষক সাউন্ডিং পজিশন (বড় বড় পদ) তৈরী করে, যাতে তারা দেখাতে পারে যে তারা খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

Source: www.inc.com

প্রথমত, আপনি যদি এটি অতিরিক্ত পরিমাণে করেন, তাহলে তার বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক কর্মী সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, এতে মার্কেটিং এজেন্সি ব্যবসার ক্ষেত্রে আইনি ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরনসরূপ, আপনার কোনো সেলসম্যান যদি সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কোনো চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় তখন আপনার প্রতিষ্ঠান তা পূরণ করতে অক্ষম হলে পরবর্তীতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। কারণ, তখন আপনার ক্লায়েন্ট আপনার বিরুদ্ধে একটি মামলা করতে পারবে, কারণ তিনি একজন সেলস এক্সিকিউটিভের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন, আর তার এই প্রতিশ্রুতি দানের কর্তৃত্ব রয়েছে। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই পদবী নির্ধারণে সচেতন হতে হবে।

৫. গোপনীয়তা বিষয়ক আইন এবং ও নীতিমালা

যদি ওয়েবসাইটে আপনি গ্রাহক সম্পর্কে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন, তবে আপনাকে এই প্রাসঙ্গিক সকল আইন মেনে চলা উচিত, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত ও প্রণিত আইনগুলো। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতিতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া উচিত। আর এজন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী দ্বারা আপনাকে নীতিসমূস লিখিত রূপে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যাবে যে, আপনার প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রচলিত আইনগুলো মেনে চলছে কিনা! আর আপনি যদি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসা পরিচালিত করতে চান, তাহলে আপনাকে অন্যান্য দেশের স্থানীয় আইন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

Source: ReadITQuick

৬. অপ্রয়োজনীয় মালিকানা কাঠামো

আপনি যখন একটি মার্কেটিং এজেন্সি হিসেবে ব্যবসায় যোগদান করতে চাচ্ছেন, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো মালিকানার বিষয়টি। আপনাকে এই বিষয়টিতে অনেক বেশি ভাবতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মালিকানার বিষয়টি চিহ্নিত করুন। মনে রাখবেন, আপনাকে শুধু এর জন্য অতিরিক্ত করই দিতে হবে না, আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যে কোনো ধরনের ঋণের জন্য আপনিও ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন। আপনার উচিত কর্পোরেট আইন বিশেষজ্ঞ একজন আইনজীবীর সাথে এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করা। এক্ষেত্রে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়াবলী তাকে বর্ণনা করবেন, তিনি আপনাকে এমন কোনো কাঠামোর প্রস্তাব দেবেন, যা আপনার অনুকূলে থাকবে।

Featured Image Source: www.marketingdonut.co.uk

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ডিজিটাল মার্কেটিং: আধুনিক যুগের প্রসার মাধ্যম

ডিজিটাল রূপান্তরে ডাটা ম্যানেজমেন্ট ব্যবহারের ছয়টি কৌশল