in

সঠিক ইউআরএল (URL) নির্বাচন করবেন কীভাবে?

ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (Uniform Resource Locator) সংক্ষেপে ইউআরএল (URL), কোনো একটি ওয়েব পেইজের ঠিকানা (Web Page) নির্দেশ করে থাকে। এটি সার্ভারের লিংক হিসেবে কাজ করে।

Image Source: sitechecker.pro

ইউআরএল-এর গঠন

  • হোস্ট (host)- ডিএনএস অ্যাড্রেস, যেটি আইপি অ্যাড্রেস হিসেবে থাকে।
  • পোর্ট (port)- একটি আবশ্যিক, যেটি আইপি অ্যাড্রেসের সাথে থাকে।
  • ট্র্যাক (track)- কীভাবে প্রবেশ ঘটবে, তা সম্পর্কে তথ্য নির্ধারণ করে।
  • প্যারামিটার (parameter)- ফাইল সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রদান করে।

যেকোনো ওয়েবসাইটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার ওয়েব পেইজগুলোর জন্য সুন্দর ও উপযোগী ইউআরএল নির্ধারণ করা। ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ও উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইউআরএল ব্যবহারকারীর স্মৃতিতে ভালোভাবে জায়গা করে নেয় এবং অর্গানিক র‍্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান লাভ করে। পরিচিত শব্দের দ্বারা তৈরী ইউআরএল সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টে উপরে অবস্থান করে থাকে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, একটি ওয়েব পেইজের জন্য উপযুক্ত ইউআরএল বেছে নিতে কোন দিকগুলো খেয়াল করতে হবে।  

১। সংক্ষিপ্ত রাখুন

আকারে ছোট ইউআরএল মনে রাখতে এবং ব্যবহার করতে অত্যন্ত সুবিধাজনক। এ ধরনের ইউআরএল কোথাও কপি-পেস্ট করতে কিংবা ফোনে বলতে অথবা প্রিন্ট করে প্রকাশ করতে সহজ হয়। এতে করে ওয়েবসাইটের প্রমোশনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। একই অর্থসম্পন্ন সহজ এবং সংক্ষিপ্ত শব্দটি বেছে নিয়ে তা ব্যবহার করে ইউআরএল তৈরি করতে চেষ্টা করুন।

২। কন্টেন্ট প্রকাশের চেষ্টা করুন

ইউআরএলের টেক্সটের অবশ্যই পেইজের কন্টেন্টকে তুলে ধরতে হবে। ব্যবহারকারী যাতে ইউআরএল দেখে প্রাথমিকভাবে একটি ধারণা পায় ওয়েব পেইজটি সম্পর্কে। এতে করে ক্লিক থ্রু রেটস (Click Through Rates) অর্থাৎ সিটিআর (CTR) বাড়ে এবং বাউন্স রেট কমে। কোনো ভিজিটরই এমন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে চান না, যেটি নামে একরকম আর ভেতরে তার অবস্থা আরেক রকম! সার্চ ইঞ্জিনেগুলোও কন্টেন্ট পরিচায়ক ইউআরএলকে ভালোভাবে সাইট করে।

৩। সংখ্যার থেকে শব্দ ভালো

নাম্বার ব্যবহার না করে কন্টেন্ট পরিচায়ক শব্দ বা বাক্য বাক্য ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। কাজেই 12ab34/5500xy এই ধরনের ইউআরএল না ব্যবহার করে যদি news/local/crime এরকম ইউআরএল ব্যবহার করা হয়, তাতে ভিজিটররা সহজেই শুরুতে বুঝে ফেলতে পারে, কী পাওয়া যাবে পেইজটায়।

৪। অবশ্যই কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে

কি-ওয়ার্ড এমন একটি ফ্যাক্টর, যা আপনার এসইও (SEO) অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) কৌশলকে ভেঙে বা গড়ে দিতে পারে। এজন্য এমনভাবে ইউআরএল সাজাতে হবে, যাতে করে এটি শুধুমাত্র বর্ণনাধর্মীই নয়, একইসাথে কি-ওয়ার্ডও তৈরি করে দেয়। দেখা গেছে, কি-ওয়ার্ডই ইউআরএলকে সার্চে বেশি পরিমাণে প্রকাশ করে, সাথে সংক্ষিপ্তও করে।

৫। সবক্ষেত্রেই সাব-ডোমেইন ভালো নয়

সাব-ডোমেইন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউআরএলকে জটিল করে তোলে। এতে করে ইউআরএল-এর যে ক্ষতিগুলো হয়, সেগুলো হলো-

  • মনে রাখতে অসুবিধা হয়
  • প্রমোশন করা কঠিন হয়
  • কম অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য বুঝতে অসুবিধা হয়

উদাহরণ হিসেবে দেওয়া যায় product.mydomain.com/html, যদিও সাব-ডোমেইন কি-ওয়ার্ড যুক্ত করার একটি ভালো উপায়, তবে এক্ষেত্রে প্রমোশন ও মনে রাখার ব্যাপারটি কঠিন হয়ে যায়।

৬। হাইফেনের রয়েছে দারুণ কাজ

এমন হতেই পারে যে, ইউআরএলটি তৈরিতে একটি বাক্য ব্যবহারের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে হাইফেনের ব্যবহার খুবই সুন্দর ও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ইউআরএল-এর ক্ষেত্রে একটি বাক্য স্পেস ছাড়া একত্রে খুব হিজিবিজি মনে হবে, সেখানে হাইফেন দিয়ে বাক্যগুলোর শব্দগুলোকে আলাদা করে দিলে সেটি পড়তে ও ব্যবহার করতে অত্যন্ত সুবিধাজনক হয়।

হাইফেন ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিনগুলোও দ্রুত বাক্য থেকে শব্দগুলোকে শনাক্ত করতে পারে এবং ভালো ফল দিতে পারে। যেমন: /brands/sony-ericsson-phone, এছাড়াও হাইফেনের পরিবর্তে ‘+’ চিহ্নও ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্ডারস্কোর ‘_’ ব্যবহার করেও শব্দ আলাদা করা যেতে পারে।

Image Source: sitechecker.pro

৭। অযথা বাড়তি তথ্য মুছে ফেলুন

এমন কোনো তথ্য যা অনর্থক লেজ হিসেবে ইউআরএলটিতে রয়েছে, সেগুলো মুছে ফেলুন। এমন যদি হয়ে থাকে যেগুলোকে বাড়তি অংশ বলে মনে হচ্ছে, সেগুলো মুছে ফেলার পর কোনো পার্থক্য থাকবে না তাহলে অবশ্যই সেগুলো কমিয়ে ইউআরএলটি মেদহীন, ঝরঝরে করে ফেলুন। ইউআরএল হতে হবে নির্দিষ্ট। এতে করে ইউআরএল নকল হওয়া বা অসৎ উদ্দেশ্য কাছাকাছি ধরনের ইউআরএল তৈরির সম্ভাবনা কমে।

৮। বিশেষ কি-ক্যারেক্টার ব্যবহার করা যাবে না

ইউআরএল লেখার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধরনের স্পেশাল বা সিম্বোল কি-ক্যারেক্টার ব্যবহার করা যাবে না। !,@,#,$,%,^,&,*- এ ধরনের চিহ্নগুলো ইউআরএলে ব্যবহার করা যাবে না। এতে ইউআরএল দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। ফলে সহজে অন্যকে জানানো যায় না।

৯। অতিরিক্ত কি-ওয়ার্ড ও একই শব্দের পুনরাবৃত্তি না করা

বেশি করে কি-ওয়ার্ড দিয়ে ইউআরএল ভর্তি করতে গিয়ে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি করে ফেললে হিতে বিপরীত হয়। এতে করে ওয়েব পেইজ ‘স্প্যামি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা সচেতন ইউজারকে ইউআরএলটি ব্যবহারে পিছিয়ে দেবে।

Image Source: mikencube.co.uk

পরিশেষে বলা যায়, আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী। অন্তর্জালের দুনিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। সচেতন ব্যবহারকারীরা একটি ওয়েবসাইট এবং এর ওয়েব পেইজগুলো বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করেন সেটির ইউআরএল-এর ওপর চোখ বুলিয়ে। একটি চমৎকার ইউআরএল পুরো ওয়েব পেইজের অবস্থানই শুধু জানান দেয় না, সেই সাথে তার গ্রহণযোগ্যতাও অনেকাংশে বৃদ্ধি করে।

Featured Image Source: Wired

Written by Anabil Ghose

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সফল হওয়া এশিয়ার ছয়জন তরুণ উদ্যোক্তা

এই বছরের জন্য সেরা কয়েকটি ব্যবসায়িক লক্ষ্য