in

স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগে জেনে নিন ১০টি আইনী পরামর্শ

আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিভিন্ন ধরনের স্টার্টআপ বিজনেসের সূচনা হয়। তবে দিন শেষে খুব কম সংখ্যক উদ্যোক্তা তাদের বিজনেসকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। অধিকাংশই অল্প সময়ের মধ্যে ঝরে পড়েন অন্যরা। কিন্তু কেন?

কারণ হলো উপযুক্ত পরিকল্পনা, পরিচালনা ও পরামর্শের অভাব। মূলত একটি স্টার্টআপ বিজনেস প্রতিষ্ঠা করতে হলে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রথমত- তহবিল সমস্যা, পুঁজির যোগান, অসাধু পার্টনার, সঠিক কর্মী নিয়োগ, বিজনেসের উপযোগী স্থান এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্যায় সম্মুখীন হতে হয়, তা হলো বিজনেস সম্পর্কিত আইনী বিষয়াবলী সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকা। তাই যেকোনো স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগে বিজনেস সংক্রান্ত বিষয়াবলী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। জেনে নিন স্টার্টআপ বিজনেসে আইন সংক্রান্ত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. আপনার বিজনেসের গঠনপ্রণালী নির্ধারণ করুন

Source: Start up Donut

স্টার্টআপ বিজনেসের ক্ষেত্রে আপনার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, বিজনেসের গঠনপ্রণালী কী ধরনের হবে। কারণ ভবিষ্যতে যেকোনো বিজনেসের গঠনপ্রকৃতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধিনিষেধ প্রণয়ন করা হতে পারে। আপনি যদি আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের প্রতি সিরিয়াস হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার প্রতি প্রথম পরামর্শটি থাকবে, আপনি আপনার বিজনেসটিকে লিমিটেড কোম্পানি অথবা কর্পোরেশন বিজনেস হিসেবে নিবন্ধন করুন। এটি আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের সম্পদসমূহের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং কোনো কারণবশত ভোক্তাদের সাথে যেকোনো বিরোধের ক্ষেত্রে এটি আপনাকে সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা দেবে।

২. লিখিত চুক্তিপত্র সংগ্রহ করুন

স্টার্টআপ বিজনেস সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনের চুক্তিপত্র আপনার বিজনেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কর্মচারী, বাহিরের ঠিকাদার, বিনিয়োগকারী মোটকথা সবকিছুর ক্ষেত্রেই লিখিত চুক্তিবদ্ধ হওয়া আবশ্যক৷ এটা কখনোই ভাববেন না যে, আপনার বিজনেসের জন্য এসবের প্রয়োজন নেই। আপনার গ্রাহক বা ক্লায়েন্ট ছাড়াও যে কেউ আপনার সাথে যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে অসাধু উপায় অবলম্বন করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার যদি কোনো লিখিত চুক্তিপত্র থাকে, তাহলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। নতুবা তাদের বিরুদ্ধে আপনার করার কিছুই থাকবে না।

৩. বীমা করুন

আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের জন্য অবশ্যই একটি বীমার প্রয়োজন রয়েছে। যা আপনার বিজনেসের সবধরনের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি আপনার বিজনেসের জন্য অবশ্যই কার্যকরী একটি পদক্ষেপ। এটি আপনার বিজনেস প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আপনাকে মানসিকভাবে চাপমুক্ত রাখবে। তবে হ্যাঁ, বীমা করার আগে অবশ্যই বিস্তর গবেষণা করে নেবেন যে, কোন বীমা প্রতিষ্ঠানটি আপনার স্টার্টআপ বিজনেসকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে।

৪. কর সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতা জেনে নিন

আপনি জানেন, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক হারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর আদায় করতে হয়৷ তবে আপনি যদি কর সংক্রান্ত বিষয়াবলী সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হবে। যা আপনার বিজনেসের সকল দিক বিবেচনা করে নিশ্চিত করবে যে আপনাকে কী পরিমাণ কর প্রদান করতে হবে৷ তাই কর সম্পর্তিক বিস্তারিত সকল বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৫. প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন

আপনার স্টার্টআপ বিজনেস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের নথিপত্র আপনার নিকট সংগ্রহে থাকতে হবে। যদিও ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তবে গোপনীয়তা চুক্তি, অংশীদারি চুক্তি, পারিশ্রমিক চুক্তি ছাড়াও যেকোনো চুক্তির নথিপত্র সংগ্রহে রাখা আবশ্যক। এই আইনি নথিপত্রগুলো আপনার বিজনেস এবং বিজনেসের সাথে সম্পৃক্ত সবকিছুর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ঐসব প্রয়োজনীয় নথিপত্র ব্যতীত কোনো ধরনের স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করা উচিত নয়।

৬. মেধাভিত্তিক সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

Source: dannonsettlement.com

এমনটা কখনোই ভাববেন না যে, আপনার মেধাভিত্তিক সম্পত্তির কোনো সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। সুরক্ষা ব্যতীত আপনার বিজনেস আইডিয়া এবং পণ্যের চুরি হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। এক্ষেত্রে এসব সম্পত্তির কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে আপনার পক্ষে কোনো আইনি শক্তি থাকবে না। তাই আপনার বিজনেসের প্রয়োজনীয় ট্রেডমার্ক ও কপিরাইটসমূহ সংরক্ষণে রাখুন।

৭. আইনি পরামর্শগুলো বিবেচনা করুন

Source: ThinkBusiness.ie

স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগে অবশ্যই কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি ভিত্তিগুলো যাচাই করে নিবেন। সেগুলো সম্পর্কে আপনি নিজেও গবেষণা করবেন এবং বিভিন্ন আইনজীবীদের থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ জেনে নিবেন। আপনার কাছে যে পরামর্শগুলো সঠিক ও যে পরামর্শ গুলো আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারবে, সেগুলোই গ্রহণ করুন। কারণ, আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের সাথে সাংঘর্ষিক পরামর্শগুলো আপনার বিজনেসের ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই সবসময় উপযুক্ত আইনি পরামর্শ ুলোই আপনার সংরক্ষণে রাখবেন।

৮. ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি স্থাপন করুন

আপনি যদি কোনো স্টার্টআপ বিজনেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বা মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ। এছাড়াও আপনার বিজনেসে যদি যৌথ অংশীদার নিযুক্ত করেন, সেক্ষেত্রেও আপনার একটি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিপত্রের প্রয়োজন হবে৷ এবং কেউ যদি আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের অংশীদারিত্ব হতে অব্যাহতি নিতে চায়, সেক্ষেত্রেও একটি আইনি চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

৯. দাবি ত্যাগকারী আইন ব্যবহার করুন

আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের পণ্য ও সেবার উপর দাবি ত্যাগকারী আইন অন্তর্ভুক্ত করা অতীব জরুরি। এটি দ্বারা আপনার কাস্টমাররা বুঝতে পারবে যে, আপনার পণ্য ও সেবার ফলাফল সমূহ সম্পূর্ণরূপে দায়বদ্ধ নয়। এটি মূলত আপনার সেবা ও কাস্টমারদের অর্থ বিনিময়ের পর উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতাসমূহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে থাকে।

১০. নিশ্চিত হোন, আপনার বিজনেসের অপারেটিং সিস্টেম আইনগত কিনা

আপনার স্টার্টআপ বিজনেসের ভিত্তি স্থাপনের পূর্বেই নির্ধারণ করুন এবং নিশ্চিত হোন যে, আপনার বিজনেসটি আইনগত ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব কিনা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইনি মামলার কারণে একটি বিজনেস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, কারণ তাদের বিজনেসের অপারেটিং সিস্টেমের কোনো লাইসেন্স ছিল না। তাই যেকোনো ধরনের স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগে অবশ্যই বিজনেসের অপারেটিং সিস্টেম পূর্বেই নির্ধারণ করবেন এবং তা আইনগত কিনা, তা নিশ্চিত হয়ে লাইসেন্স করে নেবেন।

সবশেষে, আপনার স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করার আগে বিজনেসের যাবতীয় পরিকল্পনা এবং পরবর্তী প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রেখে সবধরনের আইনগত নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি ও সততা আপনার স্টার্টআপ বিজনেসকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে পৌঁছাবে।

Featured Image Source: The Pitcher

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

উদ্যোক্তা মনোভাব যেভাবে আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবে

ডিজিটাল মার্কেটিং: আধুনিক যুগের প্রসার মাধ্যম