in

ই-কমার্স নামক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

সময় পাল্টে যাবার সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে সবকিছু। দিনকে দিন কিছু কিছু মাধ্যম মানুষকে যেমন খুব সহজে স্মার্ট হবার উপায় বাতলে দিচ্ছে, ঠিক তেমনি খুব সহজে উপার্জনের রাস্তাও দেখিয়ে দিচ্ছে। ফেসবুক, টুইটারের মতো জনপ্রিয় সাইটগুলো থেকে মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগ অংশই ভালো উপার্জন করছে। ফেসবুক থেকেও উপার্জন? শুনে কেমন হোঁচট খেলেন বুঝি?

হোঁচট খাওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। কেননা, আমাদের অনেকেই ফেসবুকটাকে কেবলমাত্র আলাপচারিতার মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করি। অথচ ঠিক একই সময়ে অন্য একজন মানুষ এই সোশ্যাল সাইটগুলোর কল্যাণে ভালো উপার্জন করে নিচ্ছে। সোশ্যাল সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে উপার্জনের যে ব্যবস্থা, তাকেই মূলত ই-কমার্স বিজনেস বলে। 

Source: scoredstuff.com

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিজনেসের নামের কথা বললে, প্রথমেই আসবে ই-কমার্সের নাম। গোটা দুনিয়ায় এই ই-কমার্স প্রতিনিয়ত বেশ প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছে। কথায় আছে,

যাহা ভালো, তাহাই মন্দ; আবার যাহা মন্দ, তাহাই ভালো। মোদ্দাকথায়, পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসেরই ইতিবাচক এবং নেতিবাচক ব্যাপার থাকে। ই-কমার্সও এর বাইরে নেই। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক, ই-কমার্সের সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তর কিছু।

সুবিধাগুলো

  • সহজলভ্যতা

ধরুন,আপনি আপনার বন্ধুর জন্মদিনে কিছু একটা গিফট করতে চাচ্ছেন। ব্যস্ততার দরুন তা বাজারে গিয়ে কিনে আনবার সময় আপনার হাতে নেই। মহা মুশকিলে পড়ে গেলেন! এই মুশকিলটুকু এখন একদম সহজ সমাধানে পৌঁছে গেছে। কারণ আপনার হাতের কাছে আছে, ই-কমার্স নামক জাদুর বাক্স। ঘরে বসে অর্ডার করলেন, আর খুব সামান্য সময়ে আপনার অর্ডারকৃত পণ্যটি হাতে পেয়ে গেলেন।

  • ২৪/৭ দোকান খোলা

সরাসরি বাজার কিংবা দোকানের কথা আসলে, আপনি এমন কয়টি দোকান কিংবা বাজার দেখাতে পারবেন, যা চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা থাকে?

খুব সামান্য সংখ্যক দোকানই খুঁজে পাওয়া যায়, যা সপ্তাহে সাতদিন এবং দিন-রাত একটানা খোলা থাকে। কিন্তু ই-কমার্স বিজনেস সিস্টেমটি আপনাকে এমন একটি দোকান দেবে, যা আপনি  দিন-রাত খুলে রাখতে পারবেন। 

Source: monaco.com
  • খুব দ্রুত ব্যবসা বৃদ্ধি

ই-কমার্স এর কল্যাণে বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তারা অনলাইনে ভালো ব্যবসা করছেন। স্বাভাবিক গতানুগতিক সিস্টেমে একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে যে পরিমাণ কাঠখড় পোড়াতে হয়, তার চেয়ে অধিকতর কম সময়ে, কম পরিশ্রমে অনলাইন বিজনেস দাঁড় করানো যায়।

  • অর্ডার

অনলাইন বা ই-কমার্স বিজনেসে খুব বেশি অর্ডার আসলে তা প্রক্রিয়াজাত করণে খুব বেশি ভোগান্তি নেই। ই-কমার্সের মাধ্যমে ভালোভাবে অর্ডার নেয়া এবং তা ঠিকঠাকমতো কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেয়া খুব সহজে সম্ভব হয়।  

  • মার্কেটিং

মনে করুন, এক ব্যক্তি আপনার অনলাইন প্রতিষ্ঠান থেকে একবার কিছু পণ্য কিনে নিলেন। পণ্য দেয়ার সুবাদে আপনি কিন্তু তার লোকেশন এবং পরিচয় খুব সহজে জেনে নিতে পারছেন। যা পরবর্তীতে খুব সহজে আপনাকে মার্কেটিং করতে সাহায্য করবে। আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো পণ্য আসলে, তখন তা ওই ক্রেতাকে খুব সহজে অবগত করতে পারছেন।

  • মেইনটেনেন্স

অনলাইন প্রতিষ্ঠান বা ই-কমার্স বিজনেস সিস্টেমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে মেইনটেনেন্স বা পরিচালনার ব্যাপারটি। একটি স্বাভাবিক বা ই-কমার্স ছাড়া দোকানে যে পরিমাণ শ্রমশক্তির প্রয়োজন পড়ে, তার একভাগও ই-কমার্স বিজনেস সিস্টেমে প্রয়োজন পড়ে না। আপনি চাইলে আপনার অনলাইন বিজনেসটি একাই চালিয়ে নিতে পারেন।

  • সবার জন্য ই-কমার্স

যথেষ্ট জায়গা নেই, দোকান ভাড়া করবার পয়সা নেই? তবে কি আপনি আপনার স্বপ্নের বিজনেসটি করতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন। ই-কমার্স আপনাকে এই সুযোগটি করে দেবে। অনলাইন বিজনেসে না লাগে জায়গা, না লাগে দোকান ভাড়া, শুধু প্রয়োজন একটি ফেসবুক পেইজ অথবা একটি ওয়েবসাইট।

  • উপার্জন

ই-কমার্সে তুলনামূলকভাবে উপার্জন বেশি। কেননা আপনি কাস্টমারের পছন্দ-অপছন্দের ফিডব্যাক সরাসরি নেয়ার পাশাপাশি, রাত-দিন একটানা ব্যবসা করতে পারছেন।

অসুবিধাগুলো কী?

  • গুণগত মানের নিশ্চয়তা নেই

অনলাইন থেকে নেয়া সব পণ্যের গুণগত মান ভালো হয় না। অনেক সময় দেখানো হয় এক, কিন্তু দেয়া হয় আরেক। এক্ষেত্রে বিক্রেতার চাইতে ক্রেতার ভোগান্তিটা বেশি।

Source: spysparrow.com
  • জনপ্রিয়তা

একটা প্রবাদ আছে,

“চিড়া বলো খই বলো
ভাতের সমান নয়
মাসি বলো পিসি বলো
মায়ের সমান নয়”

আসলে ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক স্বাদের ব্যপারটি আপনি হাজার দামি কৃত্রিম কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপিত করতে পারবেন না। ই-কমার্স যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, পায়ে হেঁটে বাজার করবার যে আসল মজা, তা কখনোই ই-কমার্স দিতে পারবে না।    

  • ডেলিভারি

হাজার হাজার অনলাইন প্রতিষ্ঠান থাকতে লোকে কেন আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনতে যাবে? অবশ্যই আপনাকে এমন কিছু করতে হবে, যা মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার হচ্ছে ডেলিভারি। যদি আপনি ঠিকঠাক সময়ে ডেলিভারি না করতে পারেন, তবে আপনার অনলাইন বিজনেসটি খুব বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। 

  • ২৪/৭ সার্ভিস

যে জিনিসটি এর ইতিবাচক দিকে ছিল, ঠিক এটিই অন্য দৃষ্টিতে নেতিবাচক দিকে এসে যাচ্ছে। অনলাইন বিজনেসে সাথে সাথে ক্রেতা তার ম্যাসেজ কিংবা অর্ডারের ফিডব্যাক না পেলে অসন্তুষ্ট হয়। যার ফলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা পণ্য ক্রয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। 

  • প্রতিযোগিতা

বাঘ নেই বনে শেয়াল রাজা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু ই-কমার্সে শেয়াল রাজা বনে যাওয়াটা একপ্রকার দুঃস্বপ্ন। তীব্র প্রতিযোগিতার এই মাধ্যমে আপনাকে রাজা হতে হলে, বাঘ হয়েই যুদ্ধ করতে হবে, কারণ এই লাইনে প্রত্যকেরই টার্গেট হচ্ছে, বাঘ হয়ে আধিপত্য বিস্তার করা।

  • কেনার আগেই পণ্যটি পর্যবেক্ষণ

গ্রাহক বা ক্রেতা এই মাধ্যমে পণ্য হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পায় না। যার ফলে ভালো-মন্দ বোঝার ব্যাপারটি ক্রেতার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র

Featured Image Source: Bangla Tribune

Written by Sonjoy Datta

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে যা জানা জরুরি

ডিজিটাল মার্কেটারের যে দক্ষতা থাকা আবশ্যক