in

ডিজিটাল মার্কেটারের যে দক্ষতা থাকা আবশ্যক

বর্তমান সময়ে আপনি যে কাজেই সফলতা অর্জন করতে চাইবেন, সে কাজে আপনাকে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে৷ সফলতার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিক যোগ্যতার চেয়ে কাজের যোগ্যতা ও দক্ষতাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর বর্তমানে প্রযুক্তি খুব দ্রুতই বিকশিত হচ্ছে। তাই টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

স্বাভাবিক ভাবেই দিনে দিনে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের ব্যবসার অগ্রগতির জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। মূলত এ কারণেই বর্তমান সময়ে একজন ডিজিটাল মার্কেটারের চাহিদা অনেক এবং দিন দিন এই চাহিদার পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। তবে প্রতিযোগিতার এই যুগে একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে টিকে থাকাটাও বেশ কঠিন। টিকে থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নের বিষয়গুলো সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

১. ডাটা অ্যানালাইসিস

Simplilearn

সহজ কথায়, বিভিন্ন তথ্য সমূহকে একত্রিত করে তা বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিসংখ্যান বের করাই হলো ডাটা এনালাইসিস। আর ডাটা এনালাইসিসের মাধ্যমেই একজন ডিজিটাল মার্কেটার তার পণ্যের জন্য সঠিক কাস্টমারদের খুঁজে বের করেন এবং কাস্টমারদের নিকট প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সেবা সরবরাহ করে থাকেন।

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে প্রথমে আপনার বিজনেস সংক্রান্ত অন্যান্য বিজনেস প্রতিষ্ঠানের তথ্য, বর্তমান বাজারের যোগান ও চাহিদা এবং কাস্টমারদের তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে সর্বোৎকৃষ্ট সেবাদানে দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে সময়ে গুগল, ফেসবুক টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, আমাজন, আলীবাবার মতো প্রতিষ্ঠান গুলোর সফলতার একমাত্র কারণ তারা দক্ষতার সাথে ডাটা এনালাইসিসের মাধ্যমে তাদের কাস্টমারদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে সক্ষম হয়েছে। অতএব ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনি ডাটা এনালাইসিসে যত দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন আপনি দিনে দিনে নিজেকে ততই সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারবেন।

২. SEO এবং SEM

ধরুন আপনি একটি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করলেন এবং আপনার কাছে বর্তমান বাজারের চাহিদা অনুযায়ী খুব ভালো মানের পণ্যের যোগান রয়েছে। আপনি প্রতিদিনই আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে সে পণ্যগুলোর এড দিচ্ছেন। এমনকি প্রতিদিনই নতুন নতুন সব অফার দিচ্ছেন।

কিন্তু আপনি কোনো কাস্টমারই পাচ্ছেন না। এতো ভালো ভালো পণ্য, অফার তারপরও কাস্টমার না পাওয়ার কারণ কী? কারণ হলো, আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা আপনার পণ্য অথবা আপনার পণ্যের অফার গুলো সম্পর্কে কেউই কিছু জানে না অথাৎ তাদের কাছে সেই তথ্য পৌঁছায় নাই৷ আর কাস্টমার যখন জানেই না তখন আপনার থেকে পণ্য ক্রয় করবে কীভাবে?

এখন কাস্টসারদের কাছে আপনার বিজনেসের তথ্য পৌঁছাতে হলে আপনাকে গুগলের শরণাপন্ন হতে হবে। কাস্টসাররা যখন গুগলে সার্চ করবে তখন গুগলই কাস্টসারকে আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে। কিন্তু গুগল মামা তো আপনার ই-কমার্স সাইটকে চিনেই না। এখন গুগল আপনার ওয়েবসাইটের পরিচয় করাতে হলে আপনার সাইটকে SEO (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ) করাতে হবে।

আর এই SEO এমন একটি জিনিস যা কি-ওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল র্যাংকের শীর্ষে নিয়ে যাবে। এতে কাস্টমাররা সহজেই আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে বা আপনার পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। আর SEM (সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং) হলো সেই একই কাজটি গুগলকে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে করানো হয়। অতএব একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই SEO এবং SEM এ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তবেই আপনি আপনার সেবা সমূহ কাস্টসারদের নিকট পৌঁছাতে পারবেন।

৩. ভিডিও তৈরি করা

Online Marketing Institute

মার্কেটিংয়ের জন্য “ভিডিও” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ একজন কাস্টমার অন্যের মুখে শোনা বা পড়ে দেখার চেয়ে ভিডিও দেখে কোনো পণ্যের প্রতি সহজে বিশ্বস্ত হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা যায়, ৮০% কাস্টমার ভিডিওর মাধ্যমে কোনো পণ্যের বিস্তারিত যাচাই করে তা ক্রয় করার প্রতি উৎসাহিত হয়ে থাকেন।

তাই একজন ডিজিটাল মার্কেটারের ভিডিও তৈরির দক্ষতা অর্জন করা উচিত। তবে হ্যাঁ, আপনাকে যে সবকিছু জানতে হবে তেমনটা নয়। বর্তমানে বিভিন্ন অ্যাপস বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়েই অনেক ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ঐসব অ্যাপস বা সফটওয়্যার সম্পর্কে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

৪. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। যেখানে তারা দিনের অনেকটা সময় ব্যয় করে থাকে। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমান সমাজের যোগাযোগ ও বিনোদনের বড় একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তাই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য উপযুক্ত একটি মাধ্যম হলো সোশ্যাল মিডিয়া অথাৎ ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, প্রিন্টারেস্টের মতো সোশ্যাল মিডিয়া গুলো।

তাই একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ও পিনটারেস্টের মতো সোশ্যাল মিডিয়া গুলো পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজি গুলোকে কাজে লাগিয়ে স্বল্প ব্যয়ে এবং কম সময়ে কাস্টমারদের কাছে কীভাবে সেবা পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।

৫. ইমেইল মার্কেটিং

মার্কেটিংয়ের জন্য বেশ পুরোনো একটি পদ্ধতি হলেও সহজে, কম খরচে এবং দ্রুত উপায়ে কাস্টমারদের কাছে সেবা পৌঁছানোর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো ইমেইল মার্কেটিং৷ এবং কাস্টমারদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রেও ইমেইল মার্কেটিং সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

আর ইমেইল মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলে, আপনি এক ক্লিকেই আপনার সেবা বা তথ্য হাজার হাজার কাস্টমারদের কছে পৌঁছাতে পারবেন। আর বর্তমানে ইমেইল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব এজন্যই যে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ যেখানে ০.৫৯% হারে পণ্য ক্রয় করে থাকে সেখানে ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মানুষ পণ্য ক্রয় করছে ৪.২৪%।

GetCRM

এ থেকেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে, যে কোনো বিজনেসের ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব কতটুকু। তাই একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই ইমেইল ব্যবহারের টুলস, মেট্রিকস, স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে হবে এবং ইমেইল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে দক্ষ হতে হবে। মোটকথা, যে কোনো বিজনেসের সমৃদ্ধির জন্য একজন ডিজিটাল মার্কেটারকে ইমেইল মার্কেটিং সম্পর্কে বেশ ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

৬. লেখালেখি ও সম্পাদনায় দক্ষতা

কনটেন্ট হলো ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের হৃদপিণ্ড। তাই মানসম্মত ব্লগ কনটেন্ট ও ল্যান্ডিং পেজের জন্য লেখালেখি এবং সম্পাদনায় দক্ষ হওয়া জরুরি। একটি মানসম্মত ব্লগ কনটেন্টের মাধ্যমে কাস্টমারদের কাছে কাঙ্ক্ষিত মেসেজ পৌঁছে দিয়ে আপনার টার্গেট কাস্টমারদের সাথে সুসম্পর্ক গড়তে সহায়তা করবে। তাই প্রত্যেকটি ডিজিটাল মার্কেটারের লেখালেখি ও সম্পাদনায় দক্ষ হওয়া উচিত। এবং লেখালেখিতে ভালো দক্ষ হলে কনভার্সেশনের মাধ্যমেও ক্লায়েন্টদের সাথে সুসম্পর্ক গড়া যায়।

ফিচার ছবি- yourdigitalresource.com

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ই-কমার্স নামক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

একজন ডিজিটাল মার্কেটারের যে ৭টি টুল ব্যবহার করা উচিত