in

জীবন বদলে দেবার মতো কয়েকটি দক্ষতা

দক্ষতা ছাড়া আপনি জীবনে কোনো কিছুইতেই সফল হতে পারবেন না। আপনি যে কাজই করতে যান না কেন, সে কাজে যদি আপনি দক্ষ না হন তাহলে প্রতিটি ধাপে ধাপে আপনাকে বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে। সবাই জীবনে ভালো কিছু করতে চায় কিন্তু ভালো কিছু করতে হলে যা করতে হবে তা করতে চায় কেউই। জীবনে সফলতা পেতে হলে সর্বপ্রথম আপনার জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। জীবনে পরিবর্তন বলতে এমন কিছু বোঝাতে চাইছি যা আপনার জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর জীবন পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।

আজকের লেখায় এমনই ৫টি দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করা হবে, যা আপনার জীবনকে বদলে দিবে।

১. দ্রুত পড়তে পারা

ZME Science

স্বয়ং মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস জানিয়েছেন, তার যদি কোনো একটি সুপার পাওয়ার থাকে তাহলে সেই সুপার পাওয়ারটি হলো দ্রুত পড়তে পারার দক্ষতা। বিল গেটসসহ বর্তমান বিশ্বের সকল সফল ব্যক্তিরাই একটি কথা বিশ্বাস করেন যে, “জ্ঞানই শক্তি”। আর জ্ঞান অর্জন করতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

আপনি যদি কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে বই, পত্রিকা এমনকি অনলাইন থেকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ পড়ার মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর দ্রুত পড়তে পারার দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব অনেক এজন্যই যে, আপনি যত দ্রুত পড়তে পারবেন তত দ্রুতই যে কোনো কাজে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন এবং তত দ্রুতই আপনি জীবনের প্রতিটি ধাপে ধাপে উন্নতি করতে পারবেন।

কিন্তু কীভাবে এই দক্ষতাটি অর্জন করবেন? পড়ার গতি বৃদ্ধি করার জন্য বেশ কিছু কোর্স রয়েছে। এবং কোর্সগুলো দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ মানুষ বুঝতে পারছে, জীবনে সফল হতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন ফ্রি কোর্সগুলোও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আর হ্যাঁ, যে কোনো দক্ষতা অর্জনের প্রধান শর্ত হলো অনুশীলন করা। অর্থাৎ অনুশীলনের জন্য আপনাকে প্রচুর পড়তে হবে। নিয়মিত অনুশীলন করলে ধীরে ধীরে পড়ার গতি এমনিতেই বৃদ্ধি পাবে।

২. জনসম্মুখে বক্তৃতা দেওয়া

এক গবেষণায় দেখা যায় যে, মানুষ তার জীবনে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা ভয় পায় তা হলো প্রকাশ্যে মানুষের সামনে কথা বলা। অধিকাংশ মানুষই ডজনখানেক বা তার চেয়ে বেশি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সম্পর্কে উপস্থাপন করতে পারে না। মূলত এটি দ্বারা ব্যক্তির দুর্বলতা চরমভাবে প্রকাশ পায়, অথচ এটি জীবন বদলে দেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা।

ওয়ারেন বাফেট সাম্প্রতিক সময়ে গ্র্যাজুয়েটদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, জীবনে সফল হতে হলে সর্বপ্রথম যে দক্ষতাটির প্রয়োজন হয় তা হলো, জনসাধারণের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেওয়া। কারণ আপনি তখনই যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং মার্কেটিংয়ে উন্নতি করতে পারবেন যখন আপনি জনসাধারণের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। আর জীবনে সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী, যোগাযোগে ও মার্কেটিয়ে দক্ষতা অর্জন করার বিকল্প নেই।

জনসম্মুখে বক্তৃতা দেওয়ায় দক্ষতা অর্জন করতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম স্পষ্টভাষী হতে হবে। বিভিন্ন মিটিং, সেমিনারে সুযোগ পেলে সাহস করে দাঁড়িয়ে যেতে হবে, আত্মবিশ্বাসের সহিত কথা বলতে হবে। প্রথম প্রথম অনেক ভয় করবে, কথা আটকে আটকে আসবে এছাড়াও আরো বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তবুও থেমে থাকা যাবে না। বাসায় নিজে নিজে আয়নার সাসনে অথবা পরিবারের সদস্যাদের সামনেও নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকলে আপনিও একদিন একজন ভালো বক্তা হয়ে উঠবেন।

৩. মাইক্রোসফট এক্সেল

mccnh.coursestorm.com

অধিকাংশ মানুষেরই মাইক্রোসফট এক্সেল স্পেডশিট সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা রয়েছে নিশ্চয়ই? কর্পোরেট জগতে এর গুরুত্ব অপরিসীম যা আপনার কাজগুলোকে আরো সহজ করে তুলে। এমনকি আপনি যখন একটি ভালো চাকরি খুঁজছেন তখন এই মাইক্রোসফট স্কিলই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পেতে সাহায্য করবে।

কারণ বর্তমান সময়ের প্রতিটি কর্পোরেশন ব্যবসায়ের একাধিক অংশ পরিচালনার জন্য মাইক্রোসফট এক্সেলের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।মাইক্রোসফটে দক্ষতা হবার জন্য আপনি অনলাইনকেই প্রধান উৎস হিসেবে বেঁছে নিতে পারেন। অনলাইনে অসংখ্য ফ্রি কোর্স রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি সহজেই মাইক্রসফট এক্সেল সম্পর্কে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

৪. ব্লগিং করা

আপনি যদি আপনার চিন্তাধারা, আইডিয়াগুলোকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান, নিজের একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে চান অথবা আপনার ব্যবসায়ের কাস্টমার বৃদ্ধি করতে চান সেক্ষেত্রে ব্লগিং একটি শক্তিশালী ও উৎকৃষ্ট মাধ্যম। দিন দিন এর ব্যবহার বেড়েই চলছে। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, বর্তমানে মানুষ তাদের প্রয়োজনে প্রতিদিন ২ মিলিয়ন ব্লগ কনটেন্ট শেয়ার করে করছে।

ব্লগিং করতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে একজন ভালো লেখক হতে হবে। যদি আপনি মনে করেন যে- হ্যাঁ, আমি ভালো লিখতে পারি তাহলে আপনার উচিত হবে আজ থেকেই ব্লগিং শুরু করা। এক্ষেত্রে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেসের মতো একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে যা একেবারেই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এরপর আপনি যে বিষয় সম্পর্কে ভালো জানেন সেই বিষয়ে লিখতে থাকুন, নতুন নতুন কনটেন্ট শেয়ার করুন এবং আপনার ব্লগের প্রচার-প্রচারণার জন্য বেশ কিছু মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করতে পারেন।

আর হ্যাঁ, এসব কিছুই শেখার জন্য আপনি গুগল ও ইউটিউবকে মূল উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

৫. হিসাবরক্ষণ

colourbox.com

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হতে চান তাহলে জেনে রাখুন, হিসাবরক্ষণ ব্যবসায়ের এমন একটি মৌলিক বিষয় যা আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবে। ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আপনাকে হিসাবরক্ষণে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা থাকতে হবে।

এই দক্ষতাটি শুধুমাত্র আপনার ব্যবসায়ের জন্যই নয়, আপনার ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, লক্ষ্য নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন এবং জীবনকে আরও স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। কিন্তু এটা কোথায় শিখবেন? আপনি যদি আপনার স্কুল/কলেজ না শিখে থাকেন তাহলে উদ্বেগ হওযার প্রয়োজন নেই। আপনি বিভিন্ন বই ও আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে অথবা অনলাইনে বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমেও হিসাবরক্ষণে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

Featured Image: Lucidchart

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

একজন ডিজিটাল মার্কেটারের যে ৭টি টুল ব্যবহার করা উচিত

শিক্ষার্থীদের অনলাইনে টাকা উপার্জনের উপায়