in

শিক্ষার্থীদের অনলাইনে টাকা উপার্জনের উপায়

জীবনের শুরুতে যারা সময় অপচয় করে, জীবনের মাঝামাঝি কিংবা শেষে সময় তাদের অপচয় করে। এই কথাটি চিরন্তন সত্য কথা। আপনি সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে, দিনশেষে বস্তা ভর্তি আফসোস ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু ব্যয় করছেন ফেইসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন রকম সামাজিক যোগাযোগের সাইটে। এসব সাইটে আসা যাওয়া করে, লাভ হলো কি লস হলো, তা চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করলেই বের করা সম্ভব। অথচ আপনি ভাবতেই পারবেন না, এই সাইটগুলোতে অযথা সময় না কাটিয়ে যদি আপনি উপযুক্ত কাজে সময়টুকু খরচ করতেন, তবে উপার্জনে আপনার অবস্থান বেশ ভালো থাকতো।

প্রতিদিন অনলাইন সাইটগুলো ব্যবহারের একটা গড়পড়তা হিসেব করলে দেখা যাবে, আমরা সাধারণত গড়ে ২-৩ ঘণ্টা অনলাইনে অপচয় করছি। বছরে যা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১০০০-১২০০ ঘণ্টা। আচ্ছা একটিবারের জন্য নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, এসব সাইট ব্যবহারে আপনার আফসোস কোনোভাবে কমলো কিনা?

কোনো ধরনের উপার্জন হলো কি না?

আমাদের প্রধান সমস্যা কী জানেন? আমাদের প্রধান সমস্যা এই যে, আমরা খুব সীমাবদ্ধতার সাথে চিন্তা করি। আমাদের চিন্তাগুলো, আমাদের প্ল্যানিংগুলো বড্ড নড়বড়ে। যার জন্য আমরা ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক মাধ্যমের গণ্ডির বাইরে গিয়ে তেমন একটা ভাবতে পারি না। অথচ একদিকে আমাদের বস্তাভর্তি অভাব-অনটন-আফসোস, কিন্ত তবু এসব উত্তরণের চিন্তায় না গিয়ে আমরা চালাচ্ছি ফেসবুক-টুইটার।

আপনার ইচ্ছাশক্তি ভালো হলে, আপনার চোখ-কান খোলা থাকলে, ইন্টারনেট থেকেও ভালো কিছু  উপাজর্ন করে নিজের আফসোসে কিংবা অভাব অনেকাংশে কমিয়ে নেয়া সম্ভব। আমাদের আজকের আয়োজনে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করবার চেষ্টা করবো, কীভাবে একজন শিক্ষার্থী, গৃহিণী এবং উঠতি তরুণ প্রজন্ম, ইন্টারনেট হতে উপার্জন করে, নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

তবে চলুন জেনে নেয়া যাক কী সেই মাধ্যমগুলো, যা থেকে উপার্জন সম্ভব-

YouTube হতে টাকা উপার্জন

অনলাইনে উপার্জনের অন্যতম এবং অধিকতর সহজ মাধ্যম হচ্ছে YouTube। আপনার মাথায় সৃজনশীল কিছু ব্যাপারস্যাপার থাকলে, এখান থেকে খুব সহজে টাকা উপার্জন করতে পারেন। বিশ্বের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলার মধ্যে রেংক করলে YouTube এর অবস্থান হবে টপ থ্রি-তে। ইউটিউব থেকে ভালো টাকা উপার্জন করতে হলে প্রথমে আপনাকে যেটি করতে হবে-  বিভিন্ন ভালো মানের কপি-পেস্ট ছাড়া কনটেন্ট রিলেটেড ভিডিও আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিতে আপলোড করতে হবে। আপনার কাছে ক্যামেরা না থাকলেও সমস্যা নেই, আপনি চাইলে আপনার মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যে সেক্টরে নিজে আনন্দ খুঁজে পান, ঠিক সেই সেক্টর নিয়েই কাজ করুন।

Source: Google Playstore

ধরুন, আপনি ভ্রমণপিপাসু, ঘুরতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো আপনার ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী করে এসব ভিডিও আপলোড করে ভালো রেসপন্স পেতে পারেন। অথবা আপনি পড়াশোনার ক্ষেত্রে যে বিষয়ে খুব ভালোভাবে জানেন, সে বিষয় নিয়েও  টিউটোরিয়াল তৈরি করে ভিডিও আপলোডের কাজটি করতে পারেন। কিন্তু একটি কথা মাথায় অবশ্যই রাখবেন, কোনোপ্রকার নকল করা যাবে না, এতে করে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারি হবে।

ব্লগিং বা আর্টিকেল লিখে

ইউটিউবিংয়ের পর উপার্জনের আরেকটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ব্লগিং বা আর্টিকেল লেখা।  

আপনি খুব সহজেই ব্লগারে কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে বিনামূল্যে একটি সাইট তৈরি করে নিতে পারেন। এখনকার সময়ে ব্লগ তৈরি করে কাজ চালিয়ে যেতে পারলে উপার্জনের জন্য থেমে থাকতে হবে না। আপনি যে বিষয়ে খুব ভালো জানেন অথবা আপনার যে বিষয়ে খুব ভালো ধারণা আছে, সে বিষয়ে প্রতিদিন লিখে যান। মাথায় রাখবেন, প্রথমদিনই সফলতা আসবে না, প্রথম ২-৩ মাস আপনাকে একটু খাটতে হবে। কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া যাবে না। একদম নতুন আঙ্গিকে মানসম্মত কিছু আর্টিকেল আপনার ব্লগে থাকলে ভিজিটর অবশ্যই আপনার ব্লগে আসবে। ভিজিটর আপনার ব্লগে বাড়তে থাকলে সফলতা পেতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।

ফ্রিল্যান্স লেখক হওয়া

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং একদম তুঙ্গে অবস্থান করছে। প্রতিনিয়ত ফ্রিল্যান্স সেক্টরে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে।

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরগুলোর মধ্যে আর্টিকেল রাইটিং সেক্টরটি তুলনামূলকভাবে সহজ।

আপনার লেখার হাত যদি ভালো থাকে, এবং আপনি খুব ভালো মানের আইডিয়া সমৃদ্ধ লেখা লিখতে পারেন তবে ফ্রিল্যান্সিং এই সেক্টর থেকে মাসে লাখ টাকা কামানোও খুব সহজ হবে।

বিভিন্ন বড় বড় নামি-দামি ওয়েবসাইটগুলো প্রতিনিয়ত লেখক খোঁজে, আপনার ইচ্ছা কিংবা জানার সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন সাইটগুলোতে আপনার লেখার আগ্রহের কথা জানালে খুব সহজেই পেয়ে জেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত ফ্রিল্যান্স জব। এবং এতে করে আপনি ঘরে বসে বসে অর্থের খুব ভালো পরিমাণও কামিয়ে নিতে পারেন।

Source: parasitosurbanos.org

প্রশ্নোত্তর

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন বিষয়ে খুব ভালো অভিজ্ঞ। যেমন ধরুন আপনি, Math, English, Physics, Biology, Humanities ইত্যাদি বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটিতে খুব ভালো জানেন। তাহলে আপনি অনলাইনে প্রশ্ন উত্তর প্রদানের মাধ্যমেও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারেন। আর আপনি যদি খুব সাবলীলভাবে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন, তাহলে অনলাইনে এমন হাজার হাজার  সাইট আছে যেগুলো এই সিস্টেমে আপনাকে টাকা দিবে। এই সেক্টরে খুব ভালো পরিমাণ অর্থ পেতে হলে আপনাকে বুদ্ধি খাটাতে হবে। আপনার জ্ঞানের পাশাপাশি প্রজ্ঞাটাও এই সেক্টরে বেশি দরকারি।

Written by Sonjoy Datta

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

জীবন বদলে দেবার মতো কয়েকটি দক্ষতা