in

অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য সেরা পাঁচটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম

বর্তমানে আমরা ইন্টারনেটের যুগে বসবাস করছি। বাসার বিদ্যুৎ বিল দেয়া থেকে শুরু করে চাকরি খোঁজা, এমনকি বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার কাজও সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন নির্ভর হয়ে গিয়েছে। বিনোদনের জন্যও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মই সাধারণ মানুষের বেশি পছন্দ। বাংলাদেশের মতো দেশে ইন্টারনেটের বিস্তার যখন আরও বাড়বে, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো থেকে সাধারণ মানুষ হয়তো মুখই ফিরিয়ে নেবে। বর্তমানে এর বিভিন্ন উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। ভেবে দেখুন তো, আপনি দিনে কত ঘণ্টা টেলিভিশন দেখেন আর কত ঘণ্টা ফেসবুকে সময় ব্যয় করেন? তফাৎটা নিশ্চয় আপনি ধরতে পারছেন।

Source: Sprout Social

বিষয়টির ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে। বিশেষত আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে এ বিষয়ে আপনার নিশ্চয় ভাবার অনেক কিছু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার মার্কেটিংয়ের দিকটি টেলিভিশন-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইনিং ইত্যাদি প্রচলিত মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারের ফলে জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং

অনলাইনে পণ্যের বিজ্ঞাপন বা মার্কেটিং পরিচালনা করার কৌশলকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমকে কেন্দ্র করে এটি তার কাজ পরিচালনা করে থাকে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করা। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভাষায় একে বলা হয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। এই লেখায় আজ আমরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য সেরা পাঁচটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জেনে নেব।

ফেসবুক

সারা বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হলো ফেসবুক। অতি সাম্প্রতিক একটি জরিপ জানাচ্ছে, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটিতে। বাংলাদেশেও প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য ফেসবুক কত সুবিধাজনক একটি মাধ্যম হতে পারে। এই বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর মাঝ থেকেই আপনি খুঁজে পেতে পারেন আপনার পণ্যের কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে।

Source: The economic times

ফেসবুকে পণ্যের মার্কেটিং করার জন্য আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের নামে একটি ফেসবুক পেইজ খুলতে পারবেন। এই পেইজে আপনার ব্যবসা বা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য সংযুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে আপনার খোলা পেইজের সাথে যেসব ব্যবহারকারী যুক্ত থাকবে, তারা সবাই আপনার ব্যবসাটি সম্পর্কে জানতে পারবে। পেইজটিতে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার সাথে সাথে সেটি কেনা বা পাওয়ার উপায় অর্থাৎ যোগাযোগের ঠিকানাও অবশ্যই দিয়ে দেবেন। পেইজটিতে আপনার ব্যবসার ওয়েবসাইটটি যুক্ত করতে ভুলবেন না। এতে আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার পণ্য সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।

এছাড়া অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর জন্য পেইজের মাধ্যমে দেয়া বিজ্ঞাপনটি বুস্টও করতে পারবেন আপনি।

গুগল প্লাস

বিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হল গুগল প্লাস। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাসে প্রায় ৩৯৫ মিলিয়ন। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের মালিকানাধীন হওয়ায় এতে মার্কেটিং করলে কিছু বাড়তি সুবিধাও পাওয়া যায়। যেমন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং। এটি হলো এমন একটি মার্কেটিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে কেউ কোনো পণ্য নিয়ে খোঁজ করলে আপনি যদি সেই পণ্যের বিক্রেতা হন, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে থাকবে।        

Source: Cultured vultures

এছাড়া গুগল প্লাস এর ব্যবহারকারীদের ব্র্যান্ড পেইজ খোলার সুযোগ দেয়। যার মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। যোগাযোগের ঠিকানা, ওয়েবসাইট এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের লোকেশন পর্যন্ত এই পেজে আপনি যুক্ত করতে পারবেন। এছাড়া গুগল প্লাস এর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে। ফলে আপনি কেবলমাত্র আপনার আপনার পণ্যের সম্ভাব্য ক্রেতাদের উদ্দেশ্য করেই পণ্যের বিজ্ঞাপন, অফার বা কন্টেন্ট শেয়ার করতে পারবেন।

লিংকডইন

লিংকডইন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট। বিভিন্ন পেশায় কর্মরতদের একই প্ল্যাটফর্মের নিচে আসার সুযোগ করে দিয়েছে এটি। বর্তমানে এ ব্যবহারকারী ২০০ মিলিয়নেরও বেশি। লিংকডইনে ব্যবহারকারীকে প্রোফেশনাল প্রোফাইল ও সেটার মাধ্যমে কমিউনিটি তৈরি করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া ব্যবসার মার্কেটিং এর জন্য লিংকডইন ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করার সুযোগ দেয়।

এখানে আপনি আপনার পণ্যের জন্য ব্র্যান্ড তৈরি করে এর সাথে সংযুক্তদের কাছে প্রোমোট করতে পারবেন। তাদের মাধ্যমে আপনি নতুন কানেকশন তৈরি করে আপনার ব্র্যান্ড পেইজের নেটওয়ার্কিং বাড়াতে পারবেন। আপনার ব্যবসা বা পণ্যের ধরন অনুযায়ী এখানে সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজে নেয়া অনেক সহজ।

টুইটার

মাইক্রো ব্লগিংয়ের জন্য পৃথিবীব্যাপী বিখ্যাত টুইটার। বিশেষ করে বিভিন্ন সেলিব্রেটিরা টুইটারে বেশি সক্রিয় হওয়ায় সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এটি ব্যবহারের প্রবণতা অনেক। বর্তমানে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন মানুষ টুইটার ব্যবহার করছে।

Source: BBC

টুইটারে ব্যবসার বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য আপনি একটি ইউনিক ইউআরএল পাবেন। একে নিজের পছন্দমতো ছবি, আপনার ওয়েবসাইট যুক্ত করে সাজাতে পারবেন। টুইটারের বিশেষত্বটি হলো এতে আপনি হ্যাশট্যাগ, @ ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা বা কমিউনিটি খুঁজে নিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার বিজ্ঞাপনটি আপনার একদম কাঙ্ক্ষিত মানুষদের কাছেই পৌঁছাবে।

পিন্টারেস্ট

প্রায় আট কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইট পিন্টারেস্ট এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে এটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম হলেও ক্রমেই এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফলে মার্কেটিং পরিচালনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে পিন্টারেস্টে। উপরন্তু ছবিভিত্তিক হওয়ায় আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপনে এটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

পিন্টারেস্টে আপনি একটি বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। নিজের প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের নামানুসারে সেটিকে নামও দিতে পারবেন। এটির আরেকটি সুবিধা হলো, এখানে আপনি অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার লিংকও যোগ করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও একইসাথে আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। যেমন, আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন সম্বলিত কোনো ছবি যদি আপনি পিন্টারেস্টে আপলোড করেন, তাহলে এর সাথে যুক্ত লিংক অনুযায়ী অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইটেও ছবিটি প্রকাশিত হয়ে যাবে। ফলে অন্যান্য সাইট পরিচালনার ঝামেলা কিছুটা হলেও কমবে।     

Featured Image: Sprout Social

Written by Sizan Ahmed Jim

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফলতার উপায়গুলো জেনে নিন

ডাটা এন্ট্রি জব: কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন?