in

গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে যা জানা জরুরি

“কাজ খুঁজে পাচ্ছি না”, “আমার ভাগ্যে কাজ নেই”, “শুধু মেধা দিয়ে চাকরি হয় না”- এই জাতীয় কথাবার্তা এখন হরহামেশাই শোনা যায়। কিন্তু, আসলেও কি তা-ই? গতানুগতিক চিন্তাধারায় আপনি পড়ে থাকলে আদৌ কি কাজ পাওয়া সম্ভব?

Source: Ezoic

অসম্ভব যে, তা বলছি না, কিন্তু তুমুল প্রতিযোগিতার এই যুগে ভালো কিছু করতে চাইলে বুদ্ধির খেলটা আপনাকে খেলতেই হবে। বলা হয়ে থাকে, বর্তমান সময়ের প্রায় সবটুকুই ইন্টারনেটের হাতে। অর্থাৎ, ইন্টারনেট বর্তমানে আধিপত্য বিস্তারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এখন কথা হচ্ছে, ইন্টারনেটের এই যুগে যদি আপনি “চাকরি নেই” জাতীয় কথা বলেন, তা শুনতে ভালো দেখায় কি না?

অবশ্যই ভালো দেখাবে না। অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে কী এমন কাজ আছে, যা আমাকে উপার্জনের পথ দেখিয়ে দেবে?

খুব সংক্ষেপে যদি বলি,

ইউটিউব এবং ওয়েবসাইট থেকে খুব ভালো উপার্জন করা যায়। তবে আজকের এই লেখাটিতে আপনারা জানতে পারবেন, উপার্জনের প্রাক পর্বটি কীভাবে শুরু করতে হয়।

Source: RankXL

গুগল এডসেন্স

গুগল সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই মোটামুটি ভালো ধারণা আছে। কিন্তু গুগল এডসেন্স সম্পর্কে? কেউ কেউ হয়তো এডসেন্স সম্পর্কে জানি, আবার কেউ কেউ হয়তো জানি না।

গুগল এডসেন্স হচ্ছে, গুগলের অধীনে থাকা বিজ্ঞাপনের একটা মাধ্যম। ব্লগ সাইটগুলোতে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই মূলত টাকা উপার্জন করা যায়। আর এই টাকা দিয়ে থাকে গুগল এডসেন্স। বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য গুগল এডসেন্সের কাছে চুক্তিবদ্ধ হয়। তাদের দেয়া টাকা থেকে, কিছু শতাংশ টাকা পায় ব্লগের মালিকেরা। সুতরাং আপনি নিজেও আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, গুগল এডসেন্স থেকে টাকা উপার্জন করতে পারেন।

Source: BlogPress

গুগল এডসেন্স পেতে যা যা করণীয়

ডোমেইন

কথায় আছে, সস্তার তিন অবস্থা। আসলে ভালো কিছু পেতে চাইলে, অবশ্যই আগে ভালো কিছু খরচ করতে হয়। ওয়েবসাইটের ভালোটা থাকে ডোমেইনে। আর ভালো ডোমেইন থাকলে গুগল এডসেন্স পাওয়া সহজ হয়। ফ্রি কিছু ডোমেইন যেমন- tk .ga ইত্যাদি দিয়ে আপনি কোনোদিনও এডসেন্স পাবেন না। এডসেন্স পেতে চাইলে .org, .net, .com জাতীয় ডোমেইন ইউজার হতে হবে।

বিশ্বস্ত

পৃথিবীতে এমন কোনো কাজ নেই, যাতে বিশ্বাস কথাটিকে বাদ দিয়ে চলা যায়।

গুগল এডসেন্সও এর বাইরে নেই। আপনি আপনার ব্লগে বা ওয়েবসাইটে এডসেন্স পেতে চাইলে, নিজেকে গুগলের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলুন। মাথায় রাখবেন, কপি করা কিছু দিয়ে আর যা-ই হোক, গুগল এডসেন্স পাবার কল্পনাও করবেন না। 

৩। কনটেন্ট

ব্লগে গুগল এডসেন্স পেতে হলে, অবশ্যই ভালো কিছু কনটেন্টের প্রয়োজন। ভালো কনটেন্টের পর আসে ঠিক কত সংখ্যক কনটেন্ট থাকলে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করে? সাধারণত ভালো মানের ২৫-৩০টি কনটেন্ট থাকলে খুব সহজে এডসেন্স পাওয়া সম্ভব। শব্দের কথা আসলে, প্রতি কনটেন্টে ন্যূন্যতম ৫০০-৭০০ শব্দ থাকা বাঞ্ছনীয়। ন্যূনতম ১০টি কনটেন্ট ১৫০০ শব্দে থাকলে খুবই ভালো হয়। অনেকেই

২-৩টি কনটেন্ট দিয়েই এডসেন্সে আবেদনপত্র পাঠায়। এপ্রুভাল চালু হয়ে গেলে প্রচুর কনটেন্ট আপডেট করা যাবে, এমন চিন্তাও করে। এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। এই জাতীয় আবেদন গুগল কখনোই আমলে নেয় না। তাই পর্যাপ্ত কনটেন্ট ছাড়া গুগলে এডসেন্সের জন্য আবেদনপত্র পাঠাবেন না।    

Source: MonsterInsights

৪। বিজ্ঞাপন

গুগল এডসেন্স পেতে চাইলে, এই অ্যাড বা বিজ্ঞাপন ব্যাপারটি সম্পর্কে ভালো আইডিয়া থাকা উচিত। গুগল বাড়তি কোনো জঞ্জাল পছন্দ করে না। তাই এডসেন্সে আবেদন করার আগে, আপনার ব্লগে লোকাল অ্যাড থাকলে, তা মুছে ফেলুন। এডসেন্স পাবার পর, আপনি চাইলে লোকাল অ্যাড দিতে পারেন।

৫। ভিজিটর

অক্সিজেন ছাড়া যেমন পৃথিবীর কোনো অস্তিত্বই থাকতো না, ঠিক তেমনি একটি সাইটে ভিজিটর না আসলে সে সাইটটি প্রাণহীন হয়ে পড়ে। সাইটে ভিজিটর আনবার বিশেষ কাজটুকু করে দেয় ‘SEO’। এডসেন্স পাবার জন্য অবশ্যই এবং অবশ্যই প্রতিদিন নতুন নতুন ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় গুগল কখনোই এডসেন্স এপ্রুভ করবে না।  

৬। ডোমেইনের বয়স

আপনার সাইট বা ডোমেইনের বয়স ঠিক কতদিন বা বছর হলে, গুগল এডসেন্স দিতে পারে, সেটাও আপনার জানা উচিত। অনেকেরই ধারণা এক বছর বা ছয় মাস বয়সী সাইটগুলোকে গুগল এডসেন্স দেয়, কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। সবকিছু ঠিকঠাকমতো দিতে পারলে, মাত্র ২-৩ মাসেই গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করে। এর বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, আপনার ব্লগের কনটেন্টগুলো যেন খুব ভালো মানের হয়।     

৭। দরকারি পেইজ

আপনার সাইটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেইজ থাকা উচিত। গুগল এই ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্ব দেয়।  

Contact Us, About Us, Privacy  and Policy- এ জাতীয় পাতা অবশ্যই এবং অবশ্যই আপনার সাইটে থাকতেই হবে। এগুলো না থাকলে কোনোভাবেই আপনার সাইটে এডসেন্স চালু হবে না।

আপনার সাইটে যদি এগুলো না থেকে থাকে, তবে এগুলো এড করে তারপর এডসেন্সের জন্য আবেদন করুন।

৮। কপিবাজ

এ দুনিয়ায় দু’ধরনের মানুষ দেখতে পাওয়া যায়। এক দলে থাকে চাপাবাজ, আর অন্য দলে কপিবাজ। কপিবাজদের ধারণা খানিকটা এমন- “আচ্ছা, গুগলে এত এত কনটেন্ট থাকতে, মাথা খাটিয়ে নতুন কনটেন্টের কী এমন প্রয়োজন? আমরা চাইলেই তো হাজার হাজার কনটেন্ট একদিনে আমাদের সাইটে পাবলিশ করতে পারি।”

এখন কথা হচ্ছে, আপনি একই জিনিস দু’বার দেখাবেন, আর গুগল আপনাকে এডসেন্স দিয়ে টাকা দিয়ে দেবে? উপার্জন করা কি এতই সস্তা? মনে রাখবেন, কনটেন্ট চুরি করে আর যাই হোক এডসেন্সের স্বপ্ন দেখবেন না। বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ কিছু সৃষ্টির দিকে মনোযোগী হোন, ভালো কিছু হবেই হবে।   

তথ্যসূত্র-

Featured Image: SEMrush

Written by Sonjoy Datta

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

মানি ম্যানেজমেন্টের জন্য সেরা ৬টি অ্যাপ্লিকেশন

ই-কমার্স নামক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ